শাজাহানপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নিতে গিয়ে অশালীন আচরণের শিকার গর্ভবতী

193
শাজাহানপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নিতে গিয়ে অশালীন আচরণের শিকার গর্ভবতী
শাজাহানপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নিতে গিয়ে অশালীন আচরণের শিকার গর্ভবতী

শাহীন আলম, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপীনগর ইউনিয়নের কামারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ আনতে গিয়ে অশালীন আচরণের শিকার হয়েছেন সুরাইয়া আক্তার ওরফে সুইটি (৩৪) নামের ৫ মাসের অন্ত:সত্ত্বা এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই গর্ভবতী। সুরাইয়া আক্তার কামারপাড়া উত্তরসরকার পাড়া গ্রামের বুলবুল আহম্মেদের স্ত্রী।

গর্ভবতী সুরাইয়া আক্তার ওরফে সুইটি তার অভিযোগে বলেছেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি কামারপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ আনতে যান। তাকে একা পেয়ে ওই কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মোফাজ্জেল হোসেন তাকে আজেবাজে কথাবার্তা বলে এবং কুপ্রস্তাব দেয়। সাড়া না দেয়ায় তাকে ধাক্কা দিয়ে ক্লিনিক থেকে বের করে দেয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে সুরাইয়ার স্বামী বুলবুল আহম্মেদ এগিয়ে গেলে তাকেও মারপিট করা হয়। অপরদিকে সিএইচসিপি মোফাজ্জেল হোসেন (৩৮) সুরাইয়া আক্তারের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, গর্ভবতী সুইটি বেগমকে গত ৮ অক্টোবর ১ মাসের ওষুধ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ১৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ফের ওষুধ নিতে আসেন। এমতাবস্থায় ওষুধ না দেয়ায় সুরাইয়া আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং গালিগালাজ করে। গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় তিনি বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের ডেকে আনেন এবং তাকে মারপিট করে।

এ সময় ক্লিনিকে থাকা বিভিন্ন ধরণের ওষুধ নিয়ে যায় এবং কিছু ওষুধ রাস্তায় ছুড়ে ফেলে। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার এস.আই ওবায়দুল্লাহ্ আল মামুন জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অপরদিকে সরেজমিন গিয়ে ওই ক্লিনিকের সেবা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, ওই ক্লিনিকে স্বাস্থ্য সেবার পরিবর্তে রোগীদের ভাগ্যে জোটে দুর্ব্যবহার আর বঞ্চনা। তারা সিএইচসিপি মোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোফাজ্জেল হোসেন জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শাজাহানপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা: মোতারব হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত পূর্বক দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।