শিবগঞ্জে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় গবাদিপশু মৃত্যুর অভিযোগ

181
শিবগঞ্জের রহবলে লাইসেন্সবিহীন প্রাণি চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় গবাদিপশু মৃত্যুর অভিযোগ
শিবগঞ্জের রহবলে লাইসেন্সবিহীন প্রাণি চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় গবাদিপশু মৃত্যুর অভিযোগ

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলি ইউনিয়নের রহবল দক্ষিণপাড়ায় লাইসেন্সবিহীন পল্লী প্রাণি চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে, ক্ষতি পুরণের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় সম্বলহীনা নারী রাবেয়া।জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার রহবল দক্ষিণপাড়া গ্রামের দিনমজুর জাকির হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম খেয়ে না খেয়ে একটি শাহীওয়াল জাতের বকনা গরু লালনপালন করে আসছিলো। সম্প্রতি ঐ গরুর আমাশয় রোগ দেখা দিলে ঐ ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের মোয়াজ্জেম প্রামাণিক এর ছেলে লাইসেন্সবিহীন হাতুড়ে পল্লী প্রাণি চিকিৎসক হুমায়ুন কবির(২৬) গত রবিবার সকাল থেকে ঐ অসুস্থ গরুটির চিকিৎসা শুরু করে।

একপর্যায়ে গরুটি বেশি অসুস্থ হয়ে পরলে হাতুড়ে ডাক্তার হুমায়ুন কবির ঐ দিনেই পর্যায়ক্রমে ৬টি ইনজেকশন পুশ করে চিকিৎসাপত্র প্রদান করে। গরুটির অবস্থা ধীরেধীরে বেশি খারাপের দিকে গেলে কলা গাছের মানজির রস করে গরুটিকে খাওয়ালে গরুটি একেবারে তেজোহীন হয়ে পরে, অবস্থার বেগতিক দেখে আমার দ্বারা আর চিকিৎসা করা সম্ভব নয় বলে সে সটকে পরে। কোন উপায় না পেয়ে অসহায় সম্বলহীনা রাবেয়া শিবগঞ্জ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণী সম্প্রসারণ অফিসার ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সাগরকে গত বুধবার দুপুরে অনুরোধ করে ডেকে আনলে সে জানায় গরুটির ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, গরুটিকে আর কোন ভাবেও বাঁচানো সম্ভব হবেনা বলে অসহায় সম্বলহীনা নারী রাবেয়াকে জানিয়ে দেয়। এরই একপর্যায়ে গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকালে গরুটি মারা যায়।

অসহায় সম্বলহীন নারী রাবেয়া গরু মারা যাওয়ার ক্ষতিপূরণ দাবী করলে হাতুড়ে ডা. হুমায়ুন কবির এলাকার জনৈক কিছু প্রভাবশালীদের গরম দেখাচ্ছে বলেও জানা যায়।এবিষয়ে হাতুড়ে ডাঃ হুমায়ুন কবির বলেন, আমার কথামতো রাবেয়া গরুটিকে ঔষধ সেবন না করানোর কারণে গরুটির মৃত্যু হয়েছে, আমার কোন দোষ নেই।শিবগঞ্জ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের প্রাণী সম্প্রসারণ অফিসার ডা. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সাগর বলেন, ভুল চিকিৎসার জন্যই গরুটির মৃত্যু হয়েছে।

অসহায় সম্বলহীন নারী রাবেয়া বলেন, আমার ঐ গরুটিই শেষ সম্বল ছিলো কিন্তু ভুল চিকিৎসার কারণে দুই মাসের গাভিন গরুটিকে মেরে ফেলা হয়েছে, আমাকে এখন না খেয়ে মরতে হবে, আমি ঐ হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে গরু মেরে ফেলার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী করছি।

এব্যাপারে দেউলি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই প্রধান বলেন, গরু মারা যাওয়ার বিষয়টি আমি জানিনা। রাবেয়ার প্রতিবেশি নেহান বাবা বাবর আলী জানায়, গরুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০হাজার টাকা হবে।এরির্পোট লেখা পর্যন্ত ভুক্তভোগী নারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।