জয়পুরহাটে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর পাশে দাঁড়ালেন ইলিয়াস হোসেন

202
জয়পুরহাটে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর পাশে দাঁড়ালেন ইলিয়াস হোসেন
জয়পুরহাটে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর পাশে দাঁড়ালেন ইলিয়াস হোসেন

জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ পৃথিবীটা অনেক বড় তেমনি এই পৃথিবীর মানুষের চাওয়া-পাওয়াও অনেক, আমাদের সবার-ই কোন না কোন স্বপ্ন থাকে। কেউ ডাক্তার হতে চাই, কেউ ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই, কেউ আবার মন্ত্রী, শিক্ষক সহ ইত্যাদি বিভিন্ন উপরের স্তরে উঠতে চাই ।

জয়পুরহাট ক্ষেতলাল উপজেলার শালবন গ্রামের মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন ইলিয়াস হোসেন ছোটবেলা থেকে তার সখ ছিল মানবসেবা করার। সেই সুবাদে সে ঢাকা যান চাকুরী তাগিদে মহান আল্লাহ অশেষ কৃপায় সে চাকুরী পান এবং এক পর্যায়ে সে একটা নাম করা প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রি তে জিএম নিযুক্ত হন।

পাশাপাশি সে নিজের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এবং তার নিজ গ্রামে শালবন রহমানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার দায়িত্ব নিয়ে সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করছেন, এবং সচ্ছল ভাবে দিনযাপন করেন নিজের এলাকায় সমাজের গরিব, অসহায়, দরিদ্র লোকগুলো কিভাবে বেঁচে আছে নিয়মিত খোঁজখবর নেন সে গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার তার পাশের গ্রাম শালুক ডুবি ভোলারচড়ার অসহায় ক্যান্সার রোগী মোছাঃ মোসলেমা বেগম কে দেখতে যান এবং সার্বিক খোঁজখবর নেন ও আর্থিক সহযোগিতা করেন শুধু ঐ একটা রোগী না পাশে আর-ও কয়েকটি রোগীর সাথে দেখা করে সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেন। এবং ফিরে এসে তার নিজ গ্রাম শালবনে কয়েকটি রোগীর সাথে দেখা করে সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেন।

তার গ্রামে গত ০২ মে ২০২০ ইং দেলোয়ার নামে এক রাজমিস্ত্রী রোড এক্সিডেন্ট করে মারা যান সে সময় ইলিয়াস হোসেন নিজ গ্রামে অবস্থান করছিল সংবাদ পাওয়া মাত্র ঐ মরহুমের যাবতীয় কর্মকাণ্ড সে নিজ দায়িত্ব বহন করেন এবং পরিবারে সার্বিক খোঁজখবর নেন। গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার সে গ্রামে এসে মরহুম দেলোয়ারের বাড়িতে যান তার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তার স্ত্রী রওশন আরার হাতে নগদ অর্থ ও তার মেয়ে দিলরুবা ও ওম্মে সালমার নতুন কাপড় হাতে তুলে দেন এবং দুই মেয়ের লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করবেন ও পড়ালেখা শেষে চাকুরির ব্যাবস্থা করার ও সহযোগিতা করবেন বলে কথা দেন।

এ বিষয়ে মরহুম দেলোয়ার হোসেনর চাচা মীরজাফর আলী দৈনিক প্রত্যাশ্যা প্রতিদিন কে বলেন ইলিয়াস আমাদের ক্ষেতলাল উপজেলার শালবন গ্রামের গর্ব সে শুধু দেলোয়ার না আমাদের গ্রাম শালবন সহ আশেপাশে অনেক অসংখ্য গরীব অসহায় মানুষের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন।

ঈদ চাঁদ ধর্মীয় যেকোনো ধরনের অনুষ্ঠানে ইলিয়াস সহযোগিতা করে আসছেন। এবং ক্যান্সার আক্রান্ত মোছাঃ মোসলেমা বেগম এর মেয়ে রাশেদা বেগম বলেন আমার স্বামী অটোরিকশা চালায় আমার মায়ের চিকিৎসা করার মতো অর্থ আমাদের নাই তবুও আমরা জয়পুরহাট রাজশাহী বগুড়া মেডিকেলে নিয়ে মায়ের চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছি কিন্তু ডাক্তার বলেছেন ঢাকায় ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়ে যেতে কিন্তু আমার কোনো ভাই নাই আমরা দুই বোন মাকে ঢাকায় নিয়ে যায়ে চিকিৎসা করা আমাদের অসম্ভব।

প্রত্যাশ্যা প্রতিদিনের জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি এস এম মিলন জিজ্ঞেস করলেন আপনাদের মায়ের চিকিৎসা করার জন্য সরকারিভাবে বা জনপ্রতিনিধি কেউ কি সহযোগিতা করেছেন সে বললেন শালবন গ্রামের ইলিয়াস হোসেন একটু সহযোগিতা ও দেখা করে খোঁজখবর নেন এবং আরও খোঁজখবর নিবেন বলে কথা দেয়। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যান সমাজ সেবা অফিস কোথাও কেউ সহযোগিতা করেননি বলে জানান।

এ বিষয়ে শালবন গ্রামের ইলিয়াস হোসেন সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও বলে যে মানুষ মানুষের জন্য। আমরাতো প্রতিনিয়ত-ই মাছ-মাংস খাচ্ছি, কিন্তু গরিব, অসহায় মানুষরা দু’বেলা দু’মুঠো খাবার পাচ্ছে কিনা সেটা কি একবারও জানার চেস্টা করি। আমরা রাস্তায় বের হলে কত টাকা কত আজেবাজে জায়গায় নষ্ট করতে পারি অথচ আমাদের পাশেই কত অসহায় অসুস্থ সুবিধা বঞ্ছিত মানুষ আছে আমাদের কাছে এসে দুইটা টাকার জন্য হাত পাতলে একটু সাহায্যতো দূরের কথা উলটো আমরা তাদের তাড়িয়ে দিই ।

তাদের কে আমাদের পাশে-ই আসতে দিইনা তারা যদি তাদের স্বপ্নের কথা প্রকাশ করতে চায়, তাহলে আমরা সমাজের উচু তলার নিচু মানুষরা হাসি-ঠাট্টা করে তাদের অপমান করতে চেষ্টা করি। কিন্তু কেন? তারা কি মানুষ না? মাছ-মাংস খেতে না পারুক, অন্তত দু’বেলা দু’মুঠো ডাল ভাত খেয়ে বেচে থাকতেতো মানা নেই । তাদেরকেতো আমরা স্বপ্ন কিনে এনে দিতে পারবোনা অন্তত তাদের স্বপ্ন পূরনের জন্য সাহায্যের হাততো বাড়াতে পারি আপনিও চাইলে সুবিধাবঞ্ছিত অসুস্থ গরীব মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য এগিয়ে আসতে।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।