বদলগাছীতে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন

327
ফিরোজ হোসেন বদলগাছী, নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ দেশের উত্তর জনপদের খাদ্য ভান্ডারখাত নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় চলতি মৌসুমে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে আমন ধানের সোনালী শিষ বাতাসে দোল খাচ্ছে । এ দোলায় লুকিয়ে আছে হাজারো কৃষকের রঙিন স্বপ্ন । পোকামাকড় ও রোগ বালাইয়ের আক্রমণের শঙ্কার মধ্যেই বেড়ে ওঠা ধানের শিষে ভরে গেছে মাঠ । দিগন্তজোড়া সোনালি ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বিকশিত করে তুলেছে । উপজেলার হাজারো কৃষকের চোখে – মুখে এখন স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা । প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোন বিপর্যয় না ঘটলে কৃষকদের বাড়ির আঙ্গিনা ভরে উঠবে সোনালি ধানের হাসিতে ।
বর্তমানে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় বাস্ত সময় পার করেছেন কৃষকেরা । আগামী সপ্তাহের মধ্যে ধান – কাটা মাড়াই শুরু হবে । নতুন ধান উঠবে কৃষকের গোলায় । ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে চাষিরা বিভোর । গৃহস্থ আর কৃষক – কৃষাণীরা গোলা-খোলা আঙ্গিনা পরিস্কার করায় ব্যস্ত  ।
সরকারের কৃষিবান্ধব কর্মসূচি, কৃষি অফিসের ব্যাপক তৎপরতা, কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম, অনুকূল আবহাওয়া, সার কীটনাশকসহ বাজারে কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ সহনশীল দাম, সহজলভ্যতা ও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের সরবরাহ এবং দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি আবাদ উপযোগী পরিবেশ ইত্যাদি বিবেচনায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে ।
উপজেলার আধাইপুর ইউপির ঠাকুরপাড়া গ্রামের কৃষক শ্রীঃ তাপস চন্দ্র মন্ডল বলেন , গতবারের চেয়ে এবার ধান ভালো হয়েছে । আর কয়েক দিন পর ধান কাটা – মাড়াই শুরু করা যাবে । তিনি বলেন, খেতে রোগ-বালাই ও পোকা আক্রমণ কিছুটা শঙ্কা ছিল, সঠিক সময়ে তা পরিচর্যা করারায় পোকা ও রোগ-বালাই আক্রমণ করতে পারেনি । দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে এবছর তিন একরের অধিক জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন । স্বর্ণা ৫ ধান গত বছরের তুলনায় এবার অধিক ফলন হবে বলেও আশা করেন তিনি ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ১৩ হাজার সাত’শ ৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । অর্জিত হয়েছে ১৪ হাজার এক’শ ৫০ হেক্টর। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তিন’শ ৮০ হেক্টর বেশি ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কারণে কৃষক রোপা আমন ধান চাষ নিয়ে শঙ্কায় থাকলেও এবার ধানের বম্পার ফলন হয়েছে । উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আসছি । কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারে এবং কোন ধরনের সমস্যায় না পড়ে এজন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি । আশা করি বিগত মৌসুমের মোত এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে । এতে কৃষক অনেকটা লাভবান হবে বলেও আশা করেন তিনি ।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।