গাইবান্ধার মৌলভীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত কাজে অনিয়ম

214

 

তপন চন্দ্র দাস, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার মৌলভীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত কাজ বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের মৌলভীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ ইং সালে স্থাপিত হয়। জাতীয় করন করা হয় ২০১৩ইং সালে। প্রতিষ্ঠার পর হতে সম্প্রতি নদী ভাংগনের কারনে দু’দফা এর স্থান পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে এটি স্থানান্তর করে প্রধান শিক্ষক গোলাম আজমের বাড়িতে নেয়া হলে এর মেরামত কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে পিইডিপি-৪ এর আওতায় ৩ লক্ষ টাকা এবং পিইডিপি-৩ এর আওতায় ২ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়াও একই অর্থ বছরে স্লিপ ফান্ড থেকে ৫০ হাজার এবং প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বিদ্যালয়ের কাজে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৩০/১০/২০২০ইং তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টায় একদল সাংবাদিকসহ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ১০শতাংশ জমির উপরে ৪০ হাত দৈর্ঘ্যরে বারান্দাসহ মেঝে পাকা টিনসেড একটি ঘর। এর সাথে ১টি টয়লেটসহ নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ঘরের মেঝে এবং কংক্রিটের খুটি গুলো দেখে সদ্য নির্মিত মনে হলেও ঘরের বেড়াসহ চালের টিন লোহার এ্যাংগেল, দরজা-জানালা গুলো পুরাতন। যাহা পূর্বের বিদ্যালয় গৃহের কাজে ব্যবহৃত। টিনসেড টয়লেটটি নুতন ভাবে নির্মাণ করা হয়।

এব্যাপারে এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আজমের সাথে কথা হলে গৃহের মেরামত কাজের ৭টি খাতে ব্যয়িত বিল/ভাউচার প্রদর্শন করেন। এতে দেখা যায়, ১নং বিল ভাউচারে টিন ৪ বান্ডিল ২৪ হাজার টাকা, টুয়া ১৮ মিঃ ৩ হাজার ৬শ’ টাকা, সিমেন্ট ৩০ বস্তা ১৩ হাজার ৫শ’ টাকাসহ মোট খরচ ৪১ হাজার ১শ’ টাকা। ২নং বিল ভাউচারে ১ম শ্রেণীর ইট ৭০ হাজার টাকা, ইটের খোয়া ৭৫ হাজার টাকা (পরিবহন খরচসহ) মোট খরচ ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। ৩নং বিল ভাউচারে কাঠ ক্রয় ও তৈরিসহ ২টি দরজা ২৬ হাজার টাকা, ২টি জানালা ১৩ হাজার টাকা (পরিবহন খরচসহ) মোট খরচ ৩৯ হাজার টাকা। ৪নং বিল ভাউচারে সি আই সিট ৩৩ হাজার ৪শ’ ৫০ টাকা। ৫নং বিল ভাউচারে বার্জার পেইন্ট ৩ হাজার ৭শ’ ৫০ টাকা। ৬নং বিল ভাউচারে মাটি ভরাট খরচ ১৭ হাজার ৭শ’ টাকা। ৭নং বিল ভাউচারে মিস্ত্রি ও লেবার খরচ ২০ হাজার টাকা। ৭টি বিল ভাউচারের একত্রে খরচ ৩ লক্ষ টাকা মাত্র।

পরিপত্রে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট/আইটি কর্তন হবে মর্মে নির্দেশনা থাকলেও প্রধান শিক্ষক গোলাম আজম মেরামত কাজ ব্যয়িত খরচ ৩ লক্ষ টাকার হিসাব প্রদর্শন করেন। ২য় বরাদ্দের ২ লক্ষ টাকার কাজের হিসাব বিবরণী চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এছাড়া স্লিপ ফান্ড এবং প্রাক-প্রাথমিকের টাকা এখনো উত্তোলন করেননি মর্মে জানান। তবে বিদ্যালয়ের মেরামত কাজে তিনি কোন প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতিতে আশ্রয় নেননি মর্মে দাবী করলেও ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ব্যয়িত বিল ভাউচার গুলো একই হাতের লেখা ধারনা করা হয়। এতে করে সন্দেহ হয় যে প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল ক্রয় করা হয়েছে বিল ভাউচার গুলো সেই সব প্রতিষ্ঠানের নয়। এ বিল ভাউচার গুলো তিনি নিজেই তৈরী করেছেন।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।