অতিথি পাখির গ্রাম এখন নওগাঁর মহাদেবপুরের কুঞ্জবন

350

ফারমান আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি :  হাজারো পাখির কল কাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরে অবস্থিত কুঞ্জবন গ্রাম । এখন পাখির কিচির মিচির শব্দে ঘুম ভাঙে নদীর দু’পাড়ের মানুষের। আর অতিথি পাখিদের ‘নিরাপদ আবাস’ গড়তে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সামাজিক সংগঠন গুলো।

প্রায় ১২ বছর যাবৎ নওগাঁর মহাবেপুরের আত্রাই নদীর কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে অতিথি পাখির আগমন ঘটে শীত মৌসুমে। শীত প্রধান দেশ থেকে নিরাপদ মনে করে পাখিরা এ নদীতে আশ্রয় নিয়েছে। শীতের শুরুতে পাখিদের আগমন শুরু হয়।

এ সময় নদীতে পানির পরিমানও কম থাকে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে আবার পাখিগুলো চলে যায়। এ নদীতে বছরে প্রায় ৪-৫ মাস পাখিগুলো থাকে। আত্রাই নদীতে পাখিদের আবাস হলেও রাত হলেই তারা পাশের বিল মোহাম্মদপুর, রামচন্দ্রপুর, মধুবনসহ কয়েকটি স্থানে চলে যায়। আবার ভোরের দিকে ফিরে আসে।

মহাদেপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে কুঞ্জবন গ্রাম। পাখিদের কেউ যেন উত্ত্যক্ত, বিরক্ত বা কোনো ধরনের শব্দ করা যাবে না বলেও সচেতন করা হচ্ছে। অতিথি পাখি দেখেতে প্রতিদিই নানা বয়সী দর্শনার্থীরা আসেন দুর দূরান্ত থেকে।

নওগাঁ সদর উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া থেকে অতিথি পাখি দেখতে এসেছেন খোরশেদ আলম রাজু তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই প্রথম এখানে এসেছি অতিথি পাখিদের দেখতে। আত্রাই নদীতে পাখির কলরবে পুরো কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত। খুব ভালো লাগছে এখানে আসতে পেরে। তবে সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি যদি সরকারি ভাবে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় এর জন্য গুরুত্বসহকারে প্রদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে আগামীতে এই এলাকায় পাখিদের আরও বেশি আগমন ঘটবে, সেই সাথে এলাকাটি সুস্থ বিনোদনের কেন্দ্রস্থল হতে পারে।

রাজশাহীর শহরের সাহেবপাড়ার গৃহিনী জাকিয়া জেসমিন এসেছেন পরিবার নিয়ে ঘুরতে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, অতিথি পাখির কলকাকলিতে সত্যিই আমি মুগ্ধ। এতগুলো অতিথি পাখি একসঙ্গে এর আগে কখনো দেখিনাই। তবে পাখিদের নিরাপদ অভয়আশ্রম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামূখি প্রদক্ষেপ গ্রহন করলে আমার মনে হয় আর বেশি পাখি আসবে প্রতি শীত মৌসুমে।

বিচিত্র পাখি উৎপাদন গবেষণা পরিষদ নামের সামাজিক সংগঠনের পরিচালক মুনসুর সরকার বলেন, অতিথি পাখিদের নিরাপদ অবস্থানের জন্য নদীর পানিতে বেশ কিছু বাঁশ দিয়ে ঘের তৈরি করে দেয়া হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে পানিতে পড়ছে। কেউ গা ভাসিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ গা পরিষ্কার করছে। আবার কেউ বাঁশের উপর বসে আরাম করছে। পাখিদের কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে নদীর দু’পাড়। বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ প্রায় ১০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির বিচরণ এখানে। মনোরম এ পরিবেশ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। পাখিদের যেন কেউ শিকার না করতে পারে এবং নদীতে যেন জেলেরা নৌকা ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করার কারনে পাখিদের অবাধ বিচরণ যেন বাঁধাগ্রস্থ না হয় সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তবে সরকারি ভাবে যদি অভয়আশ্রম হিসেবে ঘোষনা দিয়ে পাখিদের নিরাপদভাবে আবাসস্থলের কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় তাহলে এই এলাকায় জীব বৈচিত্রের নিরাপদ আবাসস্থল হতে পারে। এছাড়া বিনোদনের প্রাণ হিসেবে পরিচিতি পাবে এই কুঞ্জবন গ্রাম।

মহাদেবপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ, কে, এম, জামান বলেন, পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিত, নদীতে কেউ যেন নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করার কারনে পাখিদের অবাধ বিচরন যেন বাঁধাগ্রস্থ না হয় এবং কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে সে বিষয়ে মসৎ অফিস এর পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে লক্ষ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান “দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন” কে বলেন, এখানে পাখি শিকার নিষিদ্ধ এবং আগত পরিযায়ী পাখি প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যদি শিকার করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।