সংবাদ সম্মেলনে বীরমুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীর দাবি

259

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা
তথ্য পরিবেশন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে

 

শাজাহনপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:- বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: লিয়াকত আলী দুর্নীতির সাথে জড়িত। সেই দুর্নীতির প্রতিবাদ করার কারণেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী।গ শুক্রবার সকালে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপরোক্ত অভিযোগ করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে বীরমুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী বলেন, তিনি ১৯৭০ সালের ১০আগষ্ট পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদেন। ৭মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণে অনুপ্রাণিত হন এবং ১১মার্চ চট্টগ্রাম ইবিআরসি থেকে পলায়ন করিয়া বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার আমতলী ব্রিজ এলাকায় গিয়ে পাক সেনাদের একটি পিকআপ গাড়ি পানিতে ফেলে দেন। সেই সাথে ওই গাড়িতে থাকা একটি চাইনিজ এস.এম.জি ব্রিজের নিচে লুকিয়ে রাখেন। এরপর ২৭অক্টোবর ভারতের বালুরঘাট প্রশিক্ষণ করে ও অপারেশন ক্যাম্পে যান।

 

সেখানে ভারতীয় তুফানী ব্যাটালিয়নে যোগদান করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে ২ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর ১৯৭৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রক্ষীবাহিনীতে যোগদেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে শাহাদৎ বরণের পর তিনি সেনাবাহিনীতে প্রত্যবর্তন করেন এবং ২০০১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

 

অপরদিকে ২০১৪ সালে শাজাহানপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী। ওই নির্বাচনে পরাজিত প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষুব্ধ হন। তারা মুক্তিযোদ্ধা হযরত আলীর বিরুদ্ধে সারিয়াকান্দি উপজেলার কাটাখালি গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর রহমান (যিনি মুক্তযোদ্ধা হিসেবে সনদপত্র পাওয়ার আগেই শহীদ হয়েছেন) এর সনদপত্র জাল করার অভিযোগ তুলেন এবং শহীদ মোজাফ্ফর রহমানের ছোট ভাই ছামছুল হক আকন্দকে ভুল বুঝিয়ে তার স্বাক্ষর নিয়ে সেনা সদর দপ্তরে অভিযোগ করেন।

 

পরবর্তীতে ওই অভিযোগ সত্য নয় মর্মে প্রত্যায়ন দিয়েছেন ছামছুল হক। কিন্তু তারপরও ২০১৪ সালে নির্বাচনে পরাজিত পক্ষ গত বুধবার শাজাহানপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের সেই পুরাতন অভিযোগটি তুলে ধরে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা), স্থানীয় প্রশাসন এবং সুশীল সমাজকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা হযরত আলী। সামাজিক ভাবে হেয় করার অসৎ উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনের বিভ্রান্তিকর, বানোয়াট ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে পরিবেশিত সংবাদে বিভ্রান্ত না হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়েছেন।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।