সাজেদা বেগমের মামলা থেকে রক্ষা পেতে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় সাংবাদিক জেল হাজতে

382

তালতলীতে ভুমি দস্যু রাসেল মুসল্লীর নির্যাতনের শিকার

মাসুম বিল্লাহ, বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ-  বরগুনার তালতলীতে মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় সাংবাদিক আবুল হাসান জেল হাজতে।ছোট  বগী ইউনিয়নের পিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাসেল মুসল্লী বাদী হয়ে নিজ মেয়ে ও ভাগিনিকে দিয়ে ধর্ষন চেষ্টা মামলা করে সাংবাদিক আবুল হাসানের বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষ সাজেদা বেগমকে জোড় পূর্বক তুলে বাড়িতে নিয়ে বর্বর হামলা ও নির্যাতন করে রাসেল। সাজেদা বেগমের এ মামলা থেকে রেহাই পেতে সাংবাদিক আবুল হাসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের পিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত্যু ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে আলী হোসেন  ও  মেয়েদের  পেত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করে একই গ্রামের ভুমি দস্যু ও সন্ত্রাসী রাসেল মুসল্লী গং। এ নিয়ে দুই পক্ষে পাল্টা পাল্টি মামলা চলমান। আলী হোসেন রাসেল মুসল্লীর মিথ্যা মামলায় জেল হাজতে যায়। এ সুযোগে গত ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ত্রাসী রাসেল মুসল্লী তার বাহিনী সহ পিকে স্কুল সংলগ্ন স্থানীয় বাজারে প্রতিপক্ষের জমিতে জোর পূর্বক ঘর নির্মানের চেষ্টা করে। এ সময় আলী হোসেন এর বোন সাজেদা বেগম বাধা দিতে গেলে রাসেল মুসল্লী তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সাজেদা বেগমের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায় বাজারের শত শত লোকের সামনে সন্ত্রাসীরা সাজেদাকে রাসেল এর বাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। বাড়িতে নিয়ে তার উপর বর্বর নির্যাতন চালয় রাসেল গং সন্ত্রাসীরা। তাদের নির্যাতনে সাজেদার  সমস্ত শরীর থেতলে ও ক্ষত-বিক্ষত হয়ে নাক-মুখ  থেকে রক্ত ক্ষরন হতে থাকে। এ ঘটনা স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হাসান তালতলী থানা  পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ রহস্যজনক কারনে নীরব ভ’মিকা পালন করে।
এ সময় স্থানীয় মনির সিকদার  ৯৯৯ নম্বারে ফোন দিলে তালতলী থানার এ এস আই আজাদ ও এ এস আই মহিউদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সাইদুল সিকদারকে সাথে নিয়ে সাজেদাকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। স্থানীয় জাহাঙ্গীর,মনির সিকদার,আলম হাওলাদার, দেলোয়ার, সাইদুর রহমান সহ ১৮/২০জন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের সাথে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সন্ত্রাসী রাসেল সাজেদা বেগমের উপর যে ভাবে বর্বর হামলা ও নির্যাতন করেছে এমন ঘটনা আমরা কখনও দেখিনি। উপায়ান্তর না পেয়ে আমরা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে পুলিশ এসে সাজেদাকে উদ্ধার করে। এ এস আই আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সংবাদ পেয়ে অমরা রাসেলদের বাড়ি থেকে সাজেদাকে উদ্ধার করি। এ সময় কাউকে গ্রেপ্তার করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন,রাসেল মুসল্লীর লোকেরা বলেছে সাজেদা এ বাড়িতে স্বেচ্ছায় এসেছে।তবে প্রতক্ষদর্শীরাতো সাজেদার উপর সন্ত্রাসী রাসেল গংদের হামলার প্রমান দিয়েছে এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি এ এস আই আজাদ।
এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে সাংবাদিক আবুল হাসান ভিডিও ধারন করতে গেলে সন্ত্রাসী রাসেল তার নিজ কন্যা লামিয়া (১৪) ও তার ডিভোর্সী বোনের মেয়ে সাদীয়া (১৬) কে দিয়ে সাংবাদিক আবুল হাসানকে ধর্ষন মামলা দিতে ঝাপটে ধরার জন্য ধাওয়া করে  ও রাসেল নিজে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। কিন্তু সাংবাদিক আবুল হাসান  এ সময় আতœরক্ষার জন্য লামিয়া (১৫) ও সাদীয়ার (১৬) ষড়যন্ত্রের কৌশল নিজ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে দৌড় দিয়ে পাশর্^বর্তী  জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভিকটিম সাদিয়ার পিতা বলেন অমি এ ঘটনাটি দেখেছি। বাস্তবে এখানে ধর্ষণ চেষ্টার কোন ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু মেয়ের মায়ের সাথে আমার ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার কারনে মেয়েটি আমার কথা শোনেনা। আমার মেয়েকে দিয়ে তার মামা রাসেল প্রতিপক্ষ দমন করতে মিথ্যা মামলা করে।
বর্বর হামলা ও নির্যাতনের শিকার সাজেদা বেগম তালতলী থানা মামলা দিতে গেলে মামলা নেয়নি পুলিশ। গত ১৫ মার্চ আমতলী জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা করেন সাজেদা।
এ দিকে সাজেদার মামলা থেকে রক্ষা পেতে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাসেল বাদী হয়ে তার মেয়ে লামিয়া(১৪) ও ভাগিনি সাদিয়াকে(১৬) দিয়ে বরগুনা নারী শিশু দমন নির্যাতন ট্রাইবুনালে ধর্ষন চেষ্টা মামলা করে। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এজাহারের জন্য তালতলী থানায় আদেশ দেন।
গত ৫ এপ্রিল রাত ৮ টায় থানায় এজাহার নিয়ে কোন রকম তদন্ত ছাড়া ৬ এপ্রিল অনুমানিক বিকেল ৪,৩০ মিনিটের সময়৷ রাসেলকে নিয়ে পুলিশ সাংবাদিক আবুল হাসানের বাড়িতে যায় । রাসেল আবুল হাসানকে ধরে ধ্বস্তা ধস্তির এক পর্যায় কামড় দিয়ে যখম করে পুলিশে দেয়।
এ ব্যপারে তালতলী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে ঘটনা সত্যতা পেয়েছে তাই আসামী গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছি।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।