চৌবাড়িয়া হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই খাজনাসহ অতিরিক্ত টাকা আদায়

402
ফারমান  আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ-  নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই খাজনাসহ অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে পশু বিক্রির খাজনার তালিকা পশুরহাটে টাঙানো হয়নি বলে জানা গেছে। যদিও সহজে দেখা যায় এমন কোনো জায়গায় ওই তালিকা টাঙানোর বিধান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই হাটে প্রতিটি গরু ও মহিষের জন্য ৪০০টাকা এবং ছাগলের জন্য ২০০ টাকা খাজনা আদায় করার কথা। কিন্তু স্থানীয় সূত্র গুলো বলছে, হাটে এই নিয়ম মানা হয় না। ইজারাদারেরা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন। তাঁরা ক্রেতার কাছ থেকে গরু ও মহিষপ্রতি ৬০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিচ্ছেন। আর ছাগলের ক্ষেত্রে ক্রেতাকে ৪০০ ও বিক্রেতাকে ৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।
নওগাঁ জেলার হাটগুলোর মধ্যে চৌবাড়িয়া হাটে পশু বেচাকেনা হয় বেশি। শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, চৌবাড়িয়া হাটের ইজারাদারের লোকজন গরুর জন্য ক্রেতার কাছ থেকে ৬০০ ও বিক্রেতা ৫০ করে মোট ৬৫০ টাকা খাজনা নিচ্ছেন। আর ছাগলের জন্য ক্রেতা ৪০০ ও বিক্রেতা ৫০ মোট ৪৫০ টাকা দিচ্ছেন। তবে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা কাউকে খাজনার আদায়ের রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। শুধু পশু বিক্রির রসিদ দেওয়া হচ্ছে।
চৌবাড়িয়া হাটে মান্দা উপজেলার দেলোয়াবাড়ী গ্রামের আরিফ হোসেন বলেন, ‘২২হাজার পাঁচশত টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। এর জন্য ৬০০ টাকা খাজনা দিতে হলো।’ গরুর বিক্রেতা শাফিউল বলেন, ‘আমাকেও এ জন্য ৫০ টাকা খাজনা দিতে হয়েছে।’ ক্রেতা মমিন হোসেন বলেন, ‘ছয় হাজার টাকা দিয়ে একটি খাসি কিনে ৪০০ টাকা খাজনা দিতে হলো।’ খাসির বিক্রেতা গফুর হক বলেন, ‘আমার কাছ থেকে খাজনা নিয়েছে ৫০ টাকা।’
গরুর ব্যবসায়ী এমদাদুল  বলেন, শুধু পশুর ক্রেতার কাছ থেকে খাজনা নেওয়ার নিয়ম। কিন্তু হাটে ইজারাদারের লোকজন বিক্রেতার কাছ থেকেও টাকা আদায় করছেন। প্রশাসনের নজরদারি নেই এখানে সবাই এসে টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়
চৌবাড়িয়া হাটের ইজারাদারের পক্ষে খাজনা আদায়কারী সামাদ হোসেন অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘করোনাভাইরাস এর কারণে ক্রেতা- বিক্রেতা কম তাই খাজনা বেশি নেওয়া হচ্ছে’। চৌবাড়িয়া হাটের ইজারদার আব্দুস সামাদ কে হাটে না পেয়ে রশিদে থাকা মোবাইল নাম্বার ০১৭০৮-৫২৮৬৯৬ ফোন দিলে রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হালিম বলেন, হাটে কেনা-বেচায় অতিরিক্ত খাজনা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি হাটের ইজারাদার অতিরিক্ত খাজনা আদায় করেন, তবে প্রমাণসহ কেউ অভিযোগ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর খাজনার তালিকা টাঙানোর জন্য হাটের ইজারাদার কে বলা হয়েছে।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।