একাধিক মামলার আসামীকে পিটিয়ে হত্যা

358
জালাল উদ্দিন, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ-  গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাটে হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ফারুক (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ  ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় যে, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার ধাপেরহাটের ছোট ছত্রগাছা গ্রামে (বৌ-বাজার) হামলার শিকার হয় ফারুক। সে সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট ইউনিয়নের সদরপাড়া গ্রামের কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেরাজুল হক জানান, মঙ্গলবার  রাত ১টার দিকে ধাপেরহাটের ছোটছত্রগাছা এলাকায় ফারুকের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাকে পিটিয়ে গুরুতর  আহত করে দূর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে তাকে রাতে টহল পুলিশ ছোট ছত্রগাছা গ্রামের খায়রুল ইসলাম এর বাড়ির সামন থেকে  উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায়  ভোর ৩ টার দিকে  ফারুক মারা যায়। হামলার পর পর ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক সেরাজুল হক একজন কে জিজ্ঞেসা বাদের জন্য ঘটনাস্হল থেকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে।জিজ্ঞেসাবাদে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে আটক দেখানো হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে ঘটনাস্হল পরিদর্শন করেছেন, সাদুল্লাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা। হত্যাকান্ডের  বিষয়ে  সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ফারুকের উপর হামলার কারণ জানা যায়নি। তবে তার নামে হত্যা, নারী নির্যাতন সহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। দূর্বৃত্তরা যেই হোক না কেন  অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে এবং থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। নিহত ফারুকের মা জোবেদা বেগম ও তার শিশু সন্তান বলেন পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিত ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শিশু সন্তান বলেন তার বাবা মৃত্যু পূর্বেই হামলাকারীদের নাম পরিবারের সকলকে জানিয়ে গেছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ফারুক এলাকায় চিহ্নিত ত্রাস এবং খুনি ওরফে গলাকাটা ফারুক নামে বেশ পরিচিত। তিনি এলাকার একাধিক অটোরিকশা, ভ্যান ছিনতাইসহ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা নারী নির্যাতন মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এলাকাবাসী আরো বলেন, তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ব্যক্তিরাই তার উপর এমন হামলা চালাতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।