রঙিন মাছ চাষ বদলে দিয়েছে নাহিদের জীবন

284

রকিবুল হাসান, ভ্রাম্যমাণ (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ-   সচ্ছল ও শৌখিন মানুষের ঘরে সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে অ্যাকোয়ারিয়াম এখন অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। যেখানে মানুষ শৌখিন ও পছন্দের রঙিন মাছ কিনে ঘরের শোভাবর্ধন করছেন। নানা রঙের মাছ সেসব সৌন্দর্যপিপাসু মানুষকে আকর্ষণ করে। এ খাতকে ঘিরে রঙিন মাছের চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। এমন রঙিন মাছ চাষে সফলতা পেয়েছেন জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই গ্রামের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান। নিজের লেখাপড়া, প্রাইভেট পড়ানোর পাশাপাশি রঙিন মাছ চাষ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

জয়পুরহাট সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান। প্রায় তিন বছর ধরে গড়ে তোলা এই খামারে মাটির পাত্র, ইট দিয়ে তৈরি চৌবাচ্চায় রাখা পানিতে ভাসছে নানা রঙের রঙিন মাছ। এর মধ্যে লাল, নীল, কমলা, কালো, বাদামি, হলুদ রঙের মাছের ছড়াছড়ি। জানা যায়, নাহিদের খামারে থাকা বেশি মূল্যের প্রতি জোড়ার রঙিন মাছ হচ্ছে প্লাটিনাম, রেড মসকো, এলিফেন ইয়ার, ব্লু-রেডিয়ান, ব্যামবো মোজাইক। এ ছাড়া মিক্সড গাপ্পি, থাই গাপ্পি, প্লাটি, সোটেল, রেড ক্যাপ, মলি, ব্ল্যাক মলি, বেলুন মলি, গুড়ামীসহ অনেক ধরনের মাছ রয়েছে তার খামারে। এ মাছ চাষের মাধ্যমে তিনি নিজের পাশাপাশি পরিবারের খরচও জোগাচ্ছেন।
নাহিদ হাসান “দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন” কে  বলেন, আমি বাসায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ বিষয়ে প্রাইভেট পড়াই। একদিন ফেসবুকের মাধ্যমে রঙিন মাছ সম্পর্কে জানতে পারি। সেসব দেখে উদ্বুদ্ধ হই। এরপর এক প্রজাতির এক জোড়া মাছ বগুড়া থেকে কিনি। তখন এই মাছে দাম নিয়েছিল ২৫০ টাকা। এরপর থেকে মাছ প্রজনন হতে হতে বর্তমানে ১৫ প্রজাতির মাছ প্রজনন হচ্ছে। এই মাছ চাষ অনেক লাভজনক।
কেমন লাভজনক, এমন প্রশ্নে নাহিদ বলেন, খামারে কয়েকটি মাটির পাত্র ও ইটের তৈরি চারটি চৌবাচ্চায় এখনো ৫ লক্ষাধিক টাকার মাছ আছে। রঙিন মাছের জন্য খাদ্য হিসেবে মাছের ফিড ব্যবহার করা হয়। এতে বছরে প্রায়  ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রজাতিভেদে প্রতি জোড়া রঙিন মাছ ৪০ টাকা থেকে ৫০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। বছরে এখান থেকে লাভ আসে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। চাকরির পাশাপাশি অথবা শিক্ষার্থী তরুণরাও এ মাছ চাষ করতে পারেন।
নাহিদ হাসানকে সহযোগিতা করেন তার বড় ভাই ওয়েজ কুরিনী। তিনি বলেন, আমাদের এই খামারে বিভিন্ন রঙিন প্রজাতির মাছ আছে। এখান থেকে মাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করা যায়, যা থেকে ছোট ভাই তার পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচও বহন করতে পারছে। ক্ষুদ্র পর্যায়ের এই মাছ চাষে সরকারিভাবে, বিশেষ করে মৎস্য অফিস থেকে সহযোগিতা পেলে এই খামারটি আরও বড় ধরনের করা যেত। এতে আমরা আরও লাভবান হতাম।
কালাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন কে বলেন, নাহিদ হাসান একজন শিক্ষিত ব্যক্তি। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি রঙিন মাছ চাষ করছেন। আমি মনে করি অন্যান্য শিক্ষিত যুবক যারা আছেন এই এলাকার, তারাও নাহিদের মতো রঙিন মাছ চাষে এগিয়ে আসতে পারে। তিনি বলেন, নাহিদকে আমরা আমাদের অধিদফতর মৎস্য বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া যদি আরও সহযোগিতা আমাদের অফিস থেকে সরকারিভাবে আসে, তাহলে আমরা তাকে দেব।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।