সাপাহারে আম কেনা-বেচা শুরু হওয়ায় কৃষকের মুখে সোনালী হাসির ঝিলিক

320
হাফিজুল হক, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ-  দীর্ঘ প্রতিক্ষার প্রহর শেষে বাজারে আম বিক্রি করতে পেরে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আম চাষীদের মুখে এখন সোনালী হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কীটনাশক স্প্রে করে অপরিপক্ক আম পাকিয়ে অতীতে বাজারে বিক্রি করে অনেক মুনাফা লুটলেও এবারে সরকারের বেধে দেয়া নিয়ম নিতী অনুসারে একটু পরে হলেও এখন বাজারে পুর্ন পরিপক্ক আম এসেছে।
দেশের বৃহত্তম আমের বাজার নওগাঁর সাপাহারে আম কেনা বেচার কাজ শুরু হয়েছে। আম চাষীগণ প্রথম বাগানের আম তারা বাজার জাত করতে পেরে বেশ খুশি হয়েছেন। আম কেনা বেচার বিষয়টি কয়েকদিন পূর্বেই জানা জানি হলে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারীগন আড়তে আড়তে ঠাঁই নিয়েছেন আম কিনতে।
বাজারে প্রথম আম বিক্রেতা জৈনক মকবুল মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান যে, তার বাগানের ৭ মন গোপাল আম ১১শ, টাকা মন দরে বিক্রি করতে পেরে সে অনেক খুশি হয়েছেন। সারা আমের মৌসুমে তিন বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি করতে পারবেন এ ধরনের বাগান ও আম তার রয়েছে বলেও জানিয়েছেন। আম বিক্রি শুরু হতে না হতেই আমবাজার বা আড়ত এলাকা ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। ভর মৌসুমে এসব এলাকায় তিল ধরনের ঠাঁই মিলবেনা বলেও অনেক আড়তদারগন জানিয়েছেন।
এদিকে বাজার ও আমের আড়তগুলোতে প্রাণ পেপসি ও জুসের জন্য ৪ শ’থেকে ৫ শ’টাকা মন দরে বিভিন্ন গুটি আম ও ৬ শ’ হতে ৮ শ’টাকা মন দরে গোপালভোগ, ১১শ হিমসাগর, ১২শ থেকে ১৪শ, আম কেনা বেচা হতে দেখা গেছে। অন্যান্য জাতের আমের বিষয়ে বিভিন্ন বাগান মালিক ও আড়তদার গনের সাথে কথা হলে  তারা জানান যে, খিরশাপাত, হিমসাগর, ক্ষুদি খিরসা, লেংড়া আম বাজারে আসতে শুরু করেছে।
এ ছাড়া ফজলী, আমরুপালি, আশ্বিনা সহ আরো বেশ কয়েক জাতের আম প্রায় জুন মাসের শেষে বাজারে আসবে বলেও বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীগন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তর ও ব্যাবসায়ীগন সূত্রে জানা গেছে এবারে সাপাহারে আম বাজারে প্রায় ১৫শ, কোটি টাকার অর্থনৈতিক লেন দেন হবে এছাড়া উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার হেঃ জমিতে লাগানো বাগানে অনুমান ১ লক্ষ ১৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হতে পারে বলেও জানা গেছে। আর কিছু দিন পরে ঠাঁঠা বরেন্দ্র এলাকায়  লেংড়া, মহোনভোগ, দুধসাগর, কুমড়াজালী, ফজলী, নাগফজলী, আমরুপালি,  হাঁড়ীভাঙ্গা, সহ বিভন্ন জাতের সুমিষ্ট রসালো আমের সমাহারে আমের বাজার ভরপুর হয়ে উঠবে বলেও এলাকার আম বাগান মালিক ও আড়তদারগন জানান ।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।