বগুড়ায় শালিসি বৈঠকে প্রহারে অসুস্থ্য যুবকের মৃত্যু

395

স্থানীয় কাউন্সিলর

পুলিশ হেফাজতে

হায়দার আলী মিঠু, স্টাফ রিপোর্টারঃ-  বগুড়ায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শালিসি বৈঠকে পৌর কাউন্সিলের মারপিটে আব্দুল মমিন (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। পরে দাফনের প্রস্তুতিকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এঘটনায় বগুড়া পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বিটুকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে। রোববার (২২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া শহরের ফুলবাড়ি মধ্যপাড়া থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত মমিন ফুলবাড়ি মধ্যপাড়ার রেজাউলের ছেলে। তিনি পেশায় হোটেল শ্রমিক ছিলেন। ২২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে তিনি মারা যান।
নিহতের স্ত্রী বর্ষা ও শাশুড়ি জানান, শুক্রবার স্থানীয় এক রিকশা চালকের শিশু কন্যাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে পৌর কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বিটু মমিনকে ফুলবাড়ি ফাউন্ডেশন নামের একটি ক্লাব ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে সালিস বৈঠকের নামে কাঠের বাটাম দিয়ে মারপিট করা হয় মমিনকে। পরে মমিনের বাবাকে ডেকে ছেলেকে তার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
শহরের কলোনী এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী অবস্থান করায় পরদিন শনিবার সন্ধ্যার পর মমিন সেখানে যান। স্ত্রীকে জানান রিকশা চালক জুয়েলের ছোট শিশু কন্যাকে সিগারেট আনতে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে পৌর কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বিটু ক্লাব ঘরে ডেকে নিয়ে তার পিঠে তিনটি কাঠের বাটাম ভেঙেছে। শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ শুনে স্ত্রী বর্ষা তার স্বামীকে গালমন্দ করে। শনিবার রাতেই মমিন শ্বশুরবাড়ি থেকে ফুলবাড়ি তার নিজের বাড়িতে চলে যান। অসুস্থতার খবর পেয়ে মমিনের ভগ্নিপতি জাহিদ রাতে বাড়িতে গিয়ে কথা বলেন।
স্বজন ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মমিন অসুস্থ বোধ করলেও কথাবার্তা স্বাভাবিক বলছিলেন। একারণে রাতে তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়নি। সকালে শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যা দেখা দিলে মমিনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মমিন মারা যান।
পরে পৌর কাউন্সিলর বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক কারনে মরদেহ নিজ উদ্যোগে মমিনের বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং দাফনের প্রস্তুতি নেন। বিকেলে ঘটনাটি সদর থানা পুলিশ জানতে পেরে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এসময় পৌর কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বিটুকে থানায় নিয়ে এসে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, রিক্সাচালক মমিন নিহতের ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল ইসলাম বিটু কে ডেকে আনা হয়েছিল। নিহতের স্বজনদের কারো উপর কোন অভিযোগ না থাকায় কাউন্সিলর বিটু কে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।