নওগাঁয় খারিজ কাজে হয়রানি ও অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ

196

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ : নওগাঁর মান্দায় এক ভূমি অফিসের মিউটেশন সহকারীর বিরুদ্ধে খারিজ কাজে হয়রানি ও অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতিকার পেতে গত ১৯ এবং ২২ নভেম্বর ২০২০ ইং অনলাইনে অর্থাৎ ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন মান্দা উপজেলাধীন মৈনম ইউপি’র স্থায়ী বাসিন্দা ও ১নং ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের সচীব ভূক্তভোগী প্রদীপ কুমার মন্ডল।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ভূক্তভোগী প্রদীপ কুমার মন্ডল বর্তমানে ভারশোঁ ইউনিয়ন পরিষদের সচীব হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি তার নিজ নামীয় এবং পৈত্রিকসূত্রেপ্রাপ্ত সম্পত্তি বিগত ৩ মাস পূর্বে মান্দা উপজেলা ভূমি অফিসে খারিজ করার জন্য আবেদন করেন। আবেদন নং ২৩১/২০২০-২০২১ এবং ৩৮২/২০২০-২০২১ (২৪/০৮/২০২০)। আবেদন দুইটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস হতে যাচাই-বাচাই অন্তে উপজেলা ভূমি অফিসে পৌঁছালে সার্ভেয়ার তাহা যাচাই-বাচাই অন্তে মিউটেশন সহকারী/ জমা সহকারী অভিযুক্ত সুমি খাতুনের কাছে জমা দেন এবং কেচ দুইটির বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য জমা সহকারীর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। সে মোতাবেক তিনি তার সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন। এরই এক পর্যায়ে জমা সহকারী অভিযুক্ত সুমি খাতুন ভূক্তভোগী প্রদীপ কুমার মন্ডলকে বলেন যে, ২ টি কেচে ২ হাজার টাকা না দিলে স্যার কেচ পাস করে দিবে না। তার কথা অনুযায়ী তাকে প্রথমে ১২’শ টাকা দেন এবং বাঁকি টাকা পরবর্তীতে দিতে চান এবং ওই কেচের ডিসিআর গ্রহণ করেন বলে জানান ভূক্তভোগী। তখন, জমা সহকারী অভিযুক্ত সুমি খাতুন ২৩১/২০২০-২০২১ নং কেচটির বিষয়ে জমা সহকারীর সাথে যোগাযোগ করতে থাকেন। এমতাবস্থায় স্যারের কথা বলে পূনরায় ভূক্তভোগীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা দাবি করে বসে। অন্যথায় কেচটি পাশ হবে না বলে জানায়।

এব্যাপারে, ভূক্তভোগী প্রদীপ কুমার মন্ডল বলেন যে, তিনি একজন ছোট্ট চাকুরিজীবি এবং সাধারণ মানুষ। তিনি খারিজ সংক্রান্ত কাজে কাছে এপর্যন্ত প্রায় ২৫ থেকে ৩০ দিন গিয়েছেন। এরপরেও সে তার সাথে প্রতারনা ও অমানবিক আচরণ করে এবং অনৈতিকভাবে টাকার দাবি করে। এমনকি ওই অভিযুক্ত সুমি খাতুনকে অফিসের প্রয়োজনে তাকে ফোন দিলেও ফোন রিসিভ না করার অভিযোগ করেন। এরই এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের আদিবাসীদের ট্রেনিং সেন্টারের নৈশ্য প্রহরী নরেশকে সুমির সাথে কেচের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে বলেন। উক্ত বিষয়ে তাকেও পাত্তা দেয়া হয়নি বলে জানান ভূক্তভোগী।

তিনি আরো বলেন, অভিযুক্ত সুমি খাতুনের বাড়ি উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র ৪/৫ কিঃমিঃ দূরে কুসুম্বা গ্রামে হওয়ায় এবং নিজ এলাকায় চাকুরি করার কারনে সে আমাদের মত সাধারণ মানুষের সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে চলেছেন এবং স্যারের কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। সুমির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুধু একটিই না। বরং তার বিরুদ্ধে রয়েছে অগনীত অভিযোগ। সাধারণ মানুষ এর একটা বিহিত চায়।

বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভূক্তোভূগী।

অভিযুক্ত সুমি খাতুনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করাসহ সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ইমরানুল হক কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন যে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক হারুন- অর রশিদ বলেন , বিষয়টি সমাধানে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।