ফ্লাট বাড়ি দখল মারপিট ও জীবন নাশের হুমকির অভিযোগে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

50

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ ফ্লাট বাড়ি দখল করে জীবননাশের হুমকি প্রদান ও মারপিটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশি বংশদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক বগুড়া জলেশ্বরীতলা খাজাপাড়া এলাকার প্রবাসী খাজা মাহফুজুল হক।

শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ্য করেন বগুড়া শহরের জেলা পরিষদের পেছনে তার স্বত্ব-দখলিয় ২৩.২০ শতক সম্পত্তির উপর ২টি বাড়ী রয়েছে। যাহার মধ্যে ১টি ১ তলা বিশিষ্ট বাড়ী ৭ শতক সম্পত্তির উপরে নির্মিত এবং অপরটি ৮.৫০ শতক সম্পত্তির উপরে নির্মিত ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন। প্রতি তলায় ৩টি করিয়া মোট ১৫টি ফ্লাট আছে।

৭ শতক সম্পত্তির উপরে নির্মিত ১ তলা বিশিষ্ট বাড়ীটি তার ভাই-ভাতিজাগণ যোগসাজস করে কিছু কাগজপত্র জাল-জালিয়াতি দলিল সৃষ্টি করে ১ মাসের ৩ বার হস্তান্তর দেখিয়ে অন্যত্র হস্তান্তর করে। তিনি দেশে ফিরে জাল- জালিয়াতি মুলে সৃষ্ট দলিল-দস্তাবেজের বিষয়ে জানতে পেরে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়াও তার ৫ তলা বিশিষ্ট ভবনের ২য় তলার পশ্চিমপার্শ্বের ভাড়াটিয়া আব্দুস সালাম মানিক ও বগুড়া রাজাপুর ভুমি অফিসের উপসহকারী ভুমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মিজানসহ অন্যান্যরা তার ছেলেকে ভুল বুঝিয়ে বাজার দামের চেয়ে অনেক কম দামে ফ্লাট ক্রয় করেছে। পরবর্তীতে আব্দুস সালাম মানিক ও মিজানের যোগসাজসে ধুনট উপজেলা উপসহকারী ভুমি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম অন্য ফ্লাটের অংশ বিশেষ ক্রয় করে বসবাস করেন।

পরে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম মানিক, মিজানুর রহমান মিজান ও আব্দুস সালামগণ অবশিষ্ট ফ্লাটগুলি সহ অবশিষ্ট সম্পত্তি ক্রয় করার জন্য বাজার দামের চেয়ে কম দাম বলায় এবং ভাই-ভাতিজাগণের ষড়যন্ত্রে জাল-যোগসাজসী কাগজপত্র সৃষ্টিতে তহসিলদার আব্দুস সালাম ও মিজান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকায় তিনি তা বিক্রী করতে রাজি হননি। একারনে তারা তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করতে থাকে। এরই একপর্যায়ে তারা তার বিধবা বোনকে মারতে আসে গালিগালাজ করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি-ধামকি দেয়।

গত ৫ এপ্রিল আব্দুস সালাম মানিক, মিজানুর রহমান মিজান, আব্দুস সালাম, মুবতাসিম ইহতিশাম অভি, তানজিম প্রমা, শামীমা আরা নীপা সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন তার ৫ তলা ভবনের পশ্চিম পার্শ্বের মুল দরজার সামনের ফাঁকা জায়গা ও তৎসংলগ্ন পায়ে চলা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কু-উদ্দেশ্যে ভাঙ্গা কাঁচ, ভাঙ্গা টাইলস্ এর অংশ ফেলে রাখে। ফেলানোর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ওই প্রবাসীকে বেধরক মারপিট করে এবং বেশি বারাবারি করলে মেরে লাশ গুম করে পুতে ফেলার হুকুম দেয়।

পরে তারা তাকে কিল-ঘুষি, লাথি মারে এবং আব্দুস সালাম কোদালের ঘাড়ি দ্বারা তাকে আঘাত করে। অন্য অভিযুক্ত অভির আঘাতে তার ডান পাজরের হাড় ভেঙ্গে যায়। তখন তিনি চিৎকার করলে নীচতলার চেম্বার থেকে মোঃ আল-আমিন রাসেল, মোঃ মানিক হোসেন মোছাঃ মনিরা মোছাঃ মাহফুজা বেগমগণ তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এলে অভিযুক্ত অভি, মানিক, মিজানগণ এডঃ রাসেল এর মাথায়, মুখ-মন্ডল সহ পিঠে, বুকে কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকে, অভিযুক্ত আব্দুস সালাম তার হাতে থাকা ধারালো ছোড়া দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে এড. রাসেলের বাম চোখের নিচের চোয়ালে আঘাত করে।
মানিক, তারা ও মাহফুজা বেগম আগাইয়া আসিলে মানিক, প্রেমা, নীপা, অভি, সালাম কিল, ঘুষি, লাথি ও কাঠের লাঠি দ্বারা আঘাত করে মানিকের বাম পা গুরুতর যখম করে। শামীমা আরা নীপা মাহফুজা বেগম শ্বাস রোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় এডঃ রাসেলের ৩০ হাজার টাকা মুল্যের রিয়েলমি এন্ড্রয়েড ফোন মাটিতে আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে।

অভিযুক্ত আব্দুস সালাম মানিক তার নিকট হতে নগদ ৮৫ হাজার ছিনিয়ে নিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তিনি এবং এড. আল-আমিন রাসেল ও মানিক মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল বগুড়ায় চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। ঘটনায় গত ১৩ এপ্রিল বগুড়া সদর থানায় জি.আর ৩৮১/২০২৪ মামলা দায়ের করেন।ঘটনার পর হতেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রবাসী বগুড়া জেলা প্রশাসনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে আসামীদের গ্রেফতার, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।