বগুড়ায় দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে বিষ পানে হত্যা, আটক ১

320
বগুড়ায় দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পানে হত্যা, আটক ১
বগুড়ায় দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে পানে হত্যা, আটক ১
গোলাম রব্বানী শিপন, মহাস্থান (বগুড়া): বগুড়ার সদর উপজেলার গোকুল পলাশবাড়ী গ্রামে দাবিকৃত যৌতুক না পেয়ে আনজিলা আক্তার (১৯) কে স্বামী ও তার পরিবার নির্যাতন ও বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের আটক ১। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের গড়-মহাস্থান পূর্বপাড়া গ্রামের আজমল হোসেনের মেয়ের সঙ্গে ১বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ী মোন্নাপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের পুত্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিয়ে হয়।
বিয়েতে কোন যৌতুকের কথা না থাকলেও বিয়ের পর থেকেই জিন্নাহ ও তার পরিবারের লোকজন আনজিলা ও তার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিল। মেয়ের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে মহাস্থানহাটে ভ্রাম্যমাণ পানের দোকানী পিতা আজমল হোসেন যৌতুকও দেয়। সম্প্রতি আবারও মটোরসাইকেল কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে আনজিলার ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে জিন্নাহ ও তার পরিবার। যৌতুকের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আনজিলাকে গত ১০দিন পূর্বে অমানুষিক নির্যাতন করে জমিতে ঘাসমাড়াই বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ানো হয়। পরে সে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে জিন্নাহর পরিবার গভীর রাতে পিতা আজমলকে ফোনে বলেন, আপনার মেয়ে অসুস্থ্য দেখতে হলে চলে আসেন। তখন পিতা আজমল হোসেন মনে করেন বরাবারের মতই যৌতুকের জন্য ডাকছেন।
রাতে বিষয়টি তিনি আমলে না নিয়ে সকালে যাবে বলে মোবাইল ফোনে জানায়। পরের দিন সকালে আজমল হোসেন, তার পরিবারের লোকজন দিয়ে, সেখানে গেলে মেয়ে জামাই জিন্নাহসহ তার পরিবারের লোকজন মেয়েকে বনসই দিয়ে নিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে আনজিলার অবস্থা আশংকাজনক দেখে জিন্নাহর পরিবারর মৃত্যুর দ্বায়ভার এড়াতে তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে বিদায় করে দেয়। সেখান থেকে অসুস্থ্য মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে এসে তার কাছে ঘটনার বিস্তারিত শুনে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জিন্নাহর বোন মর্জিনা বেগম (৩৫) কে পুলিশ আটক করেছে।
এবিষয়ে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ূন এর সাথে কথা বললে তিনি  জানান, এ ঘটনায় তার বাবা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে। আগে একটা জিডিও করা হয়ে। অভিযুক্ত ১জনকে আটক করা হয়েছে।  অন্য আসামী গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।