বগুড়ায় ৯৯৯ এ কল করে অপহরনকারীদের কাছে থেকে উদ্ধার হল আটককারিরা

275
৯৯৯ এ কল করে অপহরনকারীদের কছে থেকে উদ্ধার হল । ছবি- অনলাইন
হেলাল, (ফটোগ্রাফার) বগুড়া :-  মুক্তিপনের দাবিতে আটক ট্রাক চালক ও মালিক ৯৯৯ এ কল দিয়ে অপহরনকারীদের কাছে থেকে উদ্ধার পেয়েছে। এসময় ছিনতাই হওয়া ট্রাকটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে শহরের জহুরুলনগর এলাকা থেকে ঐ চালক ও মালিক উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
এ ঘটনায় বগুড়ার আলোচিত তুফান ও মতিন সরকারের ভাই সোহাগ সরকার (৪০)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শাহিনুর রহমান শাহিন নামের এক কলেজ ছাত্রকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। সোহাগ চকসুত্রাপুর এলাকার মজিবর রহমান সরকারের ছেলে ও শাহীন দুপচাঁচিয়ার আলতাফনগর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায় সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজীসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের উদ্ধারের পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান বরগুনা এলাকার রিমন ফরাজী নামে এক ট্রাক মালিক চালক ইমরানকে নিয়ে ঢাকার বাড্ডা থেকে মালামাল বোঝাই করে সোমবার (২৫ জানুয়ারী) সকালে বগুড়ায় আসে। বগুড়া প্রথম বাইপাস সড়কের চারমাথা এলাকায় নির্ধারিত স্থানে তারা ট্রাকের মালামাল নামিয়ে দেয়। পরে তারা সবুজ নামে এক আত্মীয়র সঙ্গে শহরতলির পশ্চিম পালশায় যায়। সেখানে রাতে শহরের জহুরুল নগর থেকে কিছু যুবক গিয়ে তাদের মারপিট করে। এসময় তাদের নিকট থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে সোহাগ সরকার এর কথামত তাদেরকে জহুরুল নগরের একটি মেসে এনে চাঁদার দাবিতে কয়েক দফা মারপিট করে। ট্রাক মালিকের নিকট থেকে ট্রাকটিও ছিনিয়ে নিয়ে নেয়া হয়। পরে সেটি বিক্রির জন্য একটি গ্যারেজে নেয়া হয়।
পুলিশ বলছে, সোহাগ সরকার ও তার লোকজন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলো বলে অপহরণের শিকার ট্রাক মালিকের নিকট থেকে তারা জেনেছে। এক পর্যায় টাকা এনে দিতে সোহাগ সরকার ও তার লোকজন ট্রাক মালিকের পরিবারকে খবর দিতে বলে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ট্রাক মালিক টাকা দিতে রাজী হয়। এতে মারপিট থামান হয়।
মেসে আটক ট্রাক মালিক রিমন ফরাজী রাত দেড় টার দিকে টয়লেটে যাওয়ার নাম করে কৌশলে মেস থেকে বের হয়ে পালিয়েগিয়ে একটি জলাধারের নিকট লুকিয়ে থাকে। ভোরের দিকে সে পুলিশের জরুরী সহায়তা চেয়ে ৯৯৯ নম্বরে বিষয়টি জানায়।
এতে পুলিশের একটি টিম জহুরুলনগর এলাকার ওই মেসে অভিযান চালায় এবং সোহাগ সরকারসহ ২ জনকে আটক করে বলে বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানান। এসময় সোহাগ সরকারের অন্য সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টাকার জন্য অপহরণ করা ট্রাক মালিক ও চালককে উদ্ধার করে। পরে তাদের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এদিকে সোহাগ সরকার ও তাদের বাহিনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে বলে একাধিক সুত্র জানায়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ট্রাক ছিনতাই, মালিক ও চালককে অপহরণ করে আটক করে মারপিট ও টাকা দাবি করার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সোহাগের বিরুদ্ধে সদর থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।