সারাদেশের ন্যায় নওগাঁয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির উদ্ধোধন

283
ফারমান আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ-  নওগাঁয় প্রথম করোনা (কোভিড-১৯) টিকা নিলেন জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ। রবিবার (৭ ফ্রেব্রুয়ারী) সকাল ১০ টায় নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালে জেলা প্রশাসক টিকা কার্যক্রম উদ্বোধনের পরই তিনি প্রথম টিকা নেন।

জানা যায়, জেলার প্রথম টিকা নেন জেলা প্রশাসক হারুন অর রশিদ। এরপর জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া, পর্যায়ক্রমে চিকিৎসক হিসেবে প্রথম টিকা নেন নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা: এ বি এম হানিফ, তারপর ডিপুটি সার্জন ডাঃ মোঃ মনজুর এ মুর্শেদ।

নারীদের মধ্য প্রথম টিকা নেন নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালের সিনিয়র নার্স বেগম সুফিয়া খাতুন। নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালের পরিচালক সিভিল সার্জন ডা: এবিএম হানিফ বলেন, প্রথম জেলা প্রশাসকের শরীরে টিকা প্রয়োগের মধ্যদিয়ে নওগাঁয় কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। তবে জেলার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্যে আমি ভ্যাকসিন নিলাম। অনেকেই ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বলছেন। কিন্তু এটাও বুঝতে হবে। এই ভ্যাকসিনটি কিন্তু তৈরি করা হয়েছে একটি ভালো উদ্দেশ্যেই।

তিনি বলেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে যদি কেউ ভ্যাকসিন না নেয়, তবে সেটা ভুল হবে। কারণ অনেক ওষুধেও কিন্তু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আবার অনেকের শরীরে অনেক ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদি আমার শরীরে অন্যান্য রোগ বেশি মাত্রায় না থাকে, তবে ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে তো কোনো সমস্যা নেই।

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন মুনজের-ই মোর্শেদ ঢাকা পোষ্টকে বলেন, মোট ৮৪ হাজার ডোজ টিকা এসেছে। এই টিকা সকলকে দেওয়া হবে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, টিকা সংরক্ষণের জন্য আগে থেকেই সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভ্যাকসিন সংরক্ষণাগারে রাখা ছিল।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ জেলার ১০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিকা দেওয়ার কেন্দ্র থেকে টিকা দেয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি ও জেলা হাসপাতালে চারটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে ছয়জন প্রশিক্ষিত ব্যক্তি এই টিকা প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে দুজন প্রশিক্ষিত টিকাকর্মী এবং চারজন স্বেচ্ছাসেবক ছিলেন।

টিকা দেওয়ার জন্য দক্ষ টিকাকর্মীরা এরই মধ্যে ঢাকায় থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। জেলায় করোনার টিকা সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, টিকা দিবেন এমন ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়নসহ যাবতীয় কার্যক্রম সুষ্ঠ ভাবে শেষ হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টিকা ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন হয়েছে। জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে ইউএনওদের প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। স্থানীয় সাংসদদের কমিটিতে উপদেষ্টা।
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।