মান্দার গোবিন্দপুর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ

308

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি :—  নওগাঁর মান্দায় গোবিন্দপুর দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি ও সুপারের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিধিসম্মতভাবে গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল খালেক এবং অন্যান্য সদস্যরা। মাদ্রাসার একটি শ্রেণীকক্ষ সংস্কারের অজুহাতে দলীয় প্রভাব খাঁটিয়ে এসব গাছগুলো কাটা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার টিনসেড ভবনের পেছনে মাদ্রাসার জমিতে দীর্ঘদিন পূর্বে লাগানো এবং মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছগুলো বেড়ে ওঠেছিলো। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সের বিভিন্ন প্রজাতির সাতটি গাছ ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল খালেকের নির্দেশে গত বুধবার (শারদীয় উৎসবের ছুটির দিনে) কেটে ফেলা হয়। এগুলোর মধ্যে দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মেহগনি এবং পাইকড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে । দেড় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছগুলো টেন্ডার ছাড়াই আশরাফুল ইসলাম নামে ওই এলাকার এক গাছ ব্যাবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা ।

এদিকে বিধিসম্মতভাবে গাছগুলো কাটা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল খালেকসহ অন্যান্য সদস্যরা বলেন, মাদ্রাসাটির একটি ঘর সংস্কারের জন্য রেজুলেশন করে ৩ টি গাছ কাটার কথা ছিলো। কিন্তু ভুলক্রমে ৭ টি গাছ কাটা পড়েছে। গাছগুলো বিক্রি করার কথাও অস্বীকার করে এক পর্যায়ে তারা বলেন যে,আমরা দলীয় ছেলে পেলে। বিষয়টি ইউএনও এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাই জানে। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। এখানে আমাদের কোন স্বার্থকতা নেই। সুতরাং এসব বিষয়ে মাথা না ঘামনোই ভালো।আর যদি কিছু করেন তবে,দলীয় ছেলেপেলেদের সাথে বার্গেডিং করা হবে।

এ ব্যাপারে গোবিন্দপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মালেকের মোবাইলে একাধিকবার কল দিয়েও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, গাছগুলো কাটার ব্যাপারে তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি তিনি জানেন না। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাকে জানানো হয়নি। যদি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে গাছগুলো কেটে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।