২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাসে আইএইচটি শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শিথিল

245

নিজস্ব প্রতিবেদক  বগুড়া

টানা ১০ ঘণ্টা অবরোধ-ভোগান্তির পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও চিকিৎসক নেতাদের আশ্বাসে সড়ক থেকে সরে এলেন বগুড়ার ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের এবং সেই সঙ্গে পলাতক সজল ঘোষকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন।

রোববার বেলা সোয়া ১২টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে। এই সময় পর্যন্ত বগুড়া শহরের শেরপুর সড়কের আইএইচটির সামনের এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে ছিল। এতে করে ওই সড়কে চলাচলকারী অসংখ্য যানবাহন ও মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।

পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে বগুড়া অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা ইয়াসমিন, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার, শরাফত ইসলাম, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সামির হোসেন মিশু, সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফসানা ইয়াসমিন বলেন, আপনারা আমাদের ছোট ভাই বোন। সামনে আপনাদের পরীক্ষা। আপনাদের ক্যারিয়ার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হোক সেটা আমরা চাই না।

এ সময় কেন এই রাতের বেলা তারা এসেছেন এমন কথা জানতে চান শিক্ষার্থীরা। এমন প্রশ্নের জবাবে আফসানা ইয়াসমিন বলেন, আপনারা তো আগে আমাদের কিছু জানাননি। জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারতাম। এখন আমাদের ওপর একটু আস্থা রাখেন।

এরপর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু মামলার নয়দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সজল ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, আপনাদের অভিযোগ যে সজল ঘোষের বিরুদ্ধে। তাকে অতি শিগগির গ্রেপ্তার করবো। পুলিশ কাজ করছে এ বিষয়ে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত সজলকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন পুলিশের কাছে। পরে তাদের দাবির প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার ঘোষণা দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সজল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এ সময় তিনি আরও বলেন, এত কিছু হয়েছে, তোমরা কেন এতদিন সজলের বিষয়টি পুলিশকে জানাওনি। এমন প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সজলের সাথে পুলিশের সখ্যতা ছিল। সেখানে পুলিশকে আর কি জানাবে তারা।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও হোস্টেলের মিল ম্যানেজার আমিনুল ইসলামকে মারধর করেন সজল ঘোষ। এই মারধরকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় দু ঘণ্টা

সড়ক অবরোধ রাখার পর তারা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। তখন থেকেই তারা কলেজের ভিতরে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।

সেদিন থেকে তিন দফা দাবিতে ক্লাস বর্জন করে লাগাতার আন্দোলন করছেন আইএইচটির শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো বহিরাগত সন্ত্রাসীকে আশ্রয় ও প্রশ্রয়দানকারী অধ্যক্ষ ডা. আমায়াত-উল-হাসিনের অপসারণ, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ইভটিজিংকারী সজল ঘোষের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং সকল শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

পরবর্তীতে ২ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ নেতা সজল কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হাসান। কিন্তু মামলার আট দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত সজল ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি অধ্যক্ষের অপসারণও পূরণ হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা আজ ক্ষোভ নিয়ে সড়কে নেমে পড়েন।

রোববার দুপুরে অবরোধের কারণে শেরপুর সড়কের আইএইচটির দু পাশে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। গন্তব্যে পৌঁছাতে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন প্রধান সড়ক ছেড়ে গলি দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করে। এতে করে শহরের ভিতরেও সড়কগুলোতেও গাড়ির লম্বা লাইন লেগে যায়। অনেকে গাড়ি ছেড়ে ব্যাগ-বস্তা নিয়ে হেঁটে রাস্তা পার হয়ে যান।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।