বিচারকের স্বাক্ষর জাল মামলায় পেশকার সহ গ্রেফতার ৫

199

নিজস্ব প্রতিবেদক,
বগুড়ার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে অভিযুক্ত আসামীদের খালাসের আদেশ তৈরি করার অপরাধে বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) ও জারীকারকসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ঘটনার সাথে জড়িত ওই মামলার অভিযুক্ত আরো চারজনকে আসামী করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন, বগুড়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মোঃ কামরুজ্জামান, জারীকারক এম এ মাসুদ, ওমেদার হারুন অর রশিদ সাজন, জেলা জজ আদালতের অবসর প্রাপ্ত সেরেস্তাদার মোঃ আব্দুল মান্নান ও তাঁর পুত্র মোঃ আবু সাহেদ।
এ ঘটনায় বগুড়া চীফ জুসিডিসয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্টেনোগ্রাফার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারঃ) মোঃ মাকছুদুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে বগুড়া সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইহান ওলিউল্লাহ বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে ওই আসামীদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ২০১/২১৩/৪৬৬/৩৪ ধারা উল্লেখপূর্বক বগুড়া সদর থানায় মামলা রেকর্ড করেন। মামলা দায়েরের পর গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলা সুত্রে জানাগেছে, গত ১৪ মে, ২৩ জিআর নং ৭৯০/২০ (সদর) মামলাটি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-০৩ আদালতে সাক্ষ্য গ্রহনের জন্য দিন ধার্য্য ছিল। ওই মামলার মোট পাঁচজন আসামির মধ্যে ১নং আসামী আয়শা আক্তার শিমু জামিন নিয়ে পলাতক ছিলেন। অপর আসামী আবু শাহেদ, মুক্তার হোসেন ও ওয়াহেদুজ্জামান মাসুদ হাজিরা দাখিল করেন। আসামি মরিয়ম আক্তার নিপুর পক্ষে বিজ্ঞ কৌশলী সময়ের প্রার্থনা করেন। সাক্ষী না আসায় আসামীপক্ষে সময়ের প্রার্থনা মঞ্জুর করে পরবর্তি দিন ধার্য্য করেন আদালত। ওই আদেশের পর নথিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গত ১৪ অক্টোবর’২৩ তারিখ বিকেল ৪ ঘটিকায় আদালতের বর্তমান বেঞ্চ সহকারী ফজলুর রশিদ এর মাধ্যমে মামলার নথিটি খুঁজে পেয়ে নথি দৃষ্টে দেখা যায় যে, শুনানির পরে ইং ১৪ মে’২৩ তারিখে বিচারকের অজ্ঞাতসারে আসামী আবু সাহেদ এর পক্ষে ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারার বিধান মতে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের দরখাস্ত নথিতে সংযুক্ত করে তা মঞ্জুর করা হয়। এবং আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে আদেশ লেখা হয়। ১৪ মে’২৩ এর আদেশ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সম্পূর্ণ জাল এবং জালিয়াতির মাধ্যমে আদেশটি তৈরি করা হয়েছে এবং আদেশে বিচারকের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। মামলাটি ৫ জানুয়ারী’২৩ তারিখে অভিযোগ গঠন করার পর সাক্ষীর জন্য দুইটি ধার্য্য তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। সাক্ষীদের প্রতি সমন প্রসেসও ঠিকমত ইস্যু করা হয়নি।
এবিষয়ে ওই আদালতের সাবেক বেঞ্চ সহকারী মোঃ কামরুজ্জামান এবং জারিকারক এম এ মাসুদকে জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান যে, বগুড়া জেলা জজ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বেঞ্চ সহকারী মোঃ আব্দুল মান্নান ও তাঁর পুত্র ওমেদার শাহেদ উক্ত জিআর মামলার অন্যান্য আসামিদের অনুরোধে এবং আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ওই আদালতের পেশকার নিয়োজিত ওমেদার হারুন অর রশিদ সাজন আসামিদের পরস্পর যোগসাজসে ঘটনার তারিখ ও সময়ে অত্রাদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শায়লার স্বাক্ষর জাল করে আসামিপক্ষে নথিতে সংযুক্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ২৪৯ ধারার দরখাস্ত মঞ্জুর করে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করতঃ আসামিদেরকে অব্যাহতির আদেশ তৈরি করেন।
বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহীনুজ্জামান জানান, এজাহারের বাকি আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।