কাহালুর মুরইল ইউপি নির্বাচনে আবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান হারেজ উদ্দিন

202
কাহালুর মুরইল ইউপি নির্বাচনে আবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান হারেজ উদ্দিন
কাহালুর মুরইল ইউপি নির্বাচনে আবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান হারেজ উদ্দিন

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়ন থেকে তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও বগুড়া জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যানের পুরুস্কার প্রাপ্ত মোঃ হারেজ উদ্দিন আবারও চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান।বিগত নির্বাচনের মত আগামী নির্বাচনেও তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা গতকাল বুধবার এক সাক্ষাতকারে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে তার নানা অবদানের বিষয় তুলে ধরেন এই প্রতিবেদকের কাছে।তিনি ১৯৫৫ সালে মুরইলের সুবইল গ্রামে এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম জসিম উদ্দিন ছিলেন একজন খুবই ভালো মানুষ। হারেজ উদ্দিন বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন।

১৯৭০ সালে তিনি বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন।তিনি জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এপ্রিল মাসে মুরইল থেকে পাকসেনারা বেশ কয়েকজন নিরীহ বাঙ্গালীকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। তাদের সাথে তাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। তার পায়ে গুলি করেছিলো পাকসেনারা। কনোমতে তিনি ওই সময় প্রাণে বেঁচে গেছেন। তার তথ্যমতে ওই সময় সুস্থ্য হয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি গেজেট ভুক্ত হওয়ার জন্য কাগজপত্রও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন। তবে এখনো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম উঠেনি।

দেশ স্বাধীনের পর নানা দুঃখ কষ্ট নিয়ে তিনি ছাত্রলীগ থেকে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীতে যুক্ত হন। ১৯৭৬ সালে তিনি বগুড়া জেলা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ও কেনেদ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হন। এরপর তিনি বগুড়া জেলা ওয়ার্কাস পার্টির যুগ্ন সম্পাদক হন। ১৯৯৬ সালে তিনি কৃষকলীগের যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে কৃষকলীগের রাজনীতি করছেন। বগুড়া জেলা কৃষকলীগের বিভিন্ন পদে থাকার পর বর্তমানে তিনি জেলা কৃষকলীগের সিনিয়ার সহ-সভাপতির দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করছেন।১৯৯৭ সালে তিনি প্রথম মুরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে দ্বিতীয় বারের মত ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটানা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সততার সাথে পালন করেছেন।

২০১১ সালের নির্বাচনে তিনি সামান্য ভোটে পরাজিত হন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে পরাজিত করে নৌকা প্রতিক নিয়ে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।তিনি তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মুরইল ইউনিয়নের ব্যপক উন্নয়নসহ মুরইল ইউনিয়নবাসীর কল্যানে অনেক ভালো কাজ করেছেন। রাস্তা পাকাকরণ, ব্রীজ-কালভার্ট, শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ তিনি অনেক উন্নয়ন মূলক কাজ করেন। তার আমলেই করা হয়েছে মুরইল ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন। তিনি মুরইল ইউনিয়নের চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিয়েছেন।

চলতি বছরেই তিনি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে কাহালু উপজেলা ও বগুড়া জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যানের সম্মাননা স্বারক ও স্বীকৃতি স্বারক পেয়েছেন। এলজি এসপি কাজের মান উন্নয়নে তিনি দুবার পুরুস্কৃত হয়েছেন। তিনি মুরইল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে তিন মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সুবইল-যাত্রাসুল ঈদগামাঠের সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন।

হারেজ উদ্দিন জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা গুলো লক্ষ করে সেই মোতাবেক কাজ করছি। আমার ইউনিয়নে আওয়ামীলীগসহ সহযোগী সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সফলতা জনগনের মাঝে আন্তরিকভাবে তুলে ধরছি। আমি অনেক ভালো কাজ করেছি। যারফলে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।