জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বহিষ্কৃত যুগ্ম-সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায়নি মর্মে দায়মুক্তি দিয়েছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সাথে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লকের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে রোববার এ আদেশ দেন।
মঙ্গলবার দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি আনব্লক চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।’
এ আবেদন করার কারণ হিসেবে দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান পরিসমাপ্তি হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক প্রতিবেদন দিয়ে তা আদালতকে অবহিত করে। এর পর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লকের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী চাত্রনেতাদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-সদস্য সচিব গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের হঠাৎ উত্থান এবং বগুড়ায় বিশাল আকারের ইফতার মাহফিল আয়োজন, শহরের কেন্দ্রস্থলে বিশাল বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন সহ নানান বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে নানান মুখরোচক আলোচনার প্রেক্ষিতে কোটি কোটি টাকার দূর্নীতির অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ আসার পর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল দলের যুগ্ম সদস্য সচিবকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এনসিপি। তখন জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও এনসিটিবির বই ছাপার কাজে ‘কমিশন বাণিজ্য’ ও ‘হস্তক্ষেপ’ করার অভিযোগে তার বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
এর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। পরে ২৭ মে সংস্থাটির আবেদনের প্রেক্ষিতে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের আদেশ হয়েছিল।
দুদকের দায়মুক্তির পর গাজী সালাউদ্দিন তানভীর তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, “আল্লাহ পাকের মেহেরবানীতে আওয়ামী দোষর ও জুলাই বিরোধী চক্রান্ত কারীদের দ্বারা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মিথ্যা-ভুয়া অভিযোগ ও মিডিয়া ট্রায়াল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর অনুসান্ধানেও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।
এতো দিন যারা প্রমাণ ছাড়াই আমাকে মিথ্যা অভিযোগের কারণে দোষী মনে করে মিডিয়া ট্রায়াল করে বিভিন্ন ভাবে অপদস্ত করেছেন, লাঞ্চিত করেছেন, গালিগালাজ করেছেন আমি তাদেরকে মাফ করে দিয়েছি।
আপনাদেরকে অনুরোধ করবো না জেনে - না শুনে - প্রমাণ ছাড়া যে কোনো কাগজের খবরকে সত্যি মনে করে কারো উপর মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার সম্মানহানী করিয়েন না মেহেরবানী করে। এতে একজন সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ট হয়ে যায় যা ভাষায় বলে বুঝানো যাবে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন, আমিন।
আসুন আমরা সকল ভিত্তিহীন অসত্য খবর ও ভুয়া মিডিয়া ট্রায়াল এর বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করি যাতে কখনোই কেউ এমন বিপদে না পড়ে। আশা করি আমার এই সত্য খবর ও পোস্ট আপনারা ঐভাবেই শেয়ার দিবেন যেইভাবে ভুয়া খবরের মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছিল যাতে জালেমরা আর কোনো মানুষের সাথে এইসব করার হিম্মত না পায়।”