বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির বগুড়া জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ) জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতিকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পাটির (বিডিপি) আল-আমিন পেয়েছেন ৫২৬ ভোট।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা হতে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১৫০টি কেন্দ্রে বিরতিহীন ভাবে ভোট গ্রহণ শেষে রাতে রিটার্নিং অফিসার ফজলুল করিম বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।
ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন জানায় ভোট প্রদানের হার ছিল ৪২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল এই নির্বাচনকে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম জালিয়াতি বলে অভিহিত করেছেন।
সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ভোটগ্রহণ শেষে তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, “বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনে সরকারি দল বিএনপি কেন্দ্র দখল, প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক আগাম রেজাল্ট শিট স্বাক্ষর, মহিলা পোলিং এজেন্টদের হুমকি প্রদান, পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র হতে বহিষ্কার, নির্বাচন কেন্দ্রের সামনে সকাল থেকে মিছিল এবং পর্যায়ক্রমে ভোট কেন্দ্র থেকে বিরোধীদল বিতাড়ন করে বেলা ২টার পর থেকে নির্বিঘ্নে জাল ভোট প্রদানের মাধ্যমে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ভোট জালিয়াতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। প্রকৃতপক্ষে সরকারি দল বিএনপি এবং তাদের অনুগ্রহ প্রার্থী রিটার্নিং অফিসার এই উপ-নির্বাচনকে সর্বময় একটি প্রহসনের নির্বাচনে পরিনত করেছে।”
তিনি বলেন, “ফলাফল ঘোষণা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। আমরা এ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার একটিই কারণ তা হলো- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং বর্তমানের বিএনপি যে বিরোধী দলের স্বাধীন মতামতের অধিকারে বিশ্বাস করে না তা জাতির সামনে তুলে ধরা। মূলত: দিনব্যাপী বিভিন্ন গণমাধ্যমে বগুড়ার উপ-নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির যে দৃশ্য বগুড়াবাসী তথা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে তাতে এ কথা প্রমাণ হয়েছে যে, সরকারি দলের তত্ত্বাবধানে কোন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।” উপ-নির্বাচনে শত ভয়-ভীতি,হ্রাস ও কালো টাকা উপেক্ষা করে যে সকল ভোটারগণ ভোট প্রদান করেছেন তাদেরকে আরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞ জানিয়েছেন আবিদুর রহমান সোহেল। বিবৃতিতে তিনি গণভোটের রায়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচন আয়োজন করা হয়।