বগুড়ার পেট্রোল পাম্প মালিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পাম্প মালিক ও প্রশাসনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, "আমাদের জ্বালানি তেল এখনো সংকটে পড়েনি। তবে পূর্ব সতর্কতা অনুযায়ী তেল বিক্রিতে সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মগুলো কঠোরভাবে মানতে হবে। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে যদি জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়, তবে সেটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সুতরাং এই বিষয় নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।" তিনি বিশেষ করে কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সেচ মৌসুমে কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য পাম্প মালিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন, রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল জলিল তার বক্তব্যে বাস্তবচিত্র তুলে ধরে বলেন: "বর্তমানে তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই, তবে সাধারণ জনগণের মধ্যে অতিরিক্ত তেল মজুদ করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে বাজারে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা পাম্প মালিকদের আহ্বান জানাই, যেন তারা ডিপো থেকে প্রাপ্ত নির্ধারিত রেশিও অনুযায়ী তেল উত্তোলন ও বিক্রি করেন। সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যদি সবাই সচেতনভাবে এবং প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহার করি, তবে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। কোনো অবস্থাতেই যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।" আব্দুল জলিল আরো বলেন, বর্তমানে পাম্প মালিকা অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কারণে জোর করে বেশি তেল নেয়ার জন্য কিছু উশৃঙ্খল গ্যাং চাপ সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে কড়া নজর দিতে হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার উপদেষ্টা ও টিএমএসএস এর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা বেগম তার বক্তব্যে সামাজিক দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন: "বৈশ্বিক এই অস্থির সময়ে আমাদের একে অপরকে দোষারোপ না করে ধৈর্য ও সংহতির পরিচয় দিতে হবে। সরকার বা বিপিসি একা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না যদি না আমরা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করি। আমরা সবাই একই সমাজের অংশ। তাই গুজব বা আতঙ্কে কান না দিয়ে বাস্তবতাকে বুঝতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সবাই মিলে সংযম ও সচেতনতার সাথে চললে এই সাময়িক পরিস্থিতি আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব। একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।"
সভায় উপস্থিত পাম্প মালিকরা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং কৃষকদের সেচ কাজে নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসন ও এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়ে সভা সমাপ্ত করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস এন্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন বগুড়া জেলা শাখার আলহাজ্ব মোঃ মামদুদুর রহমান শিফন, সিনিয়র সহসভাপতি এমদাদ আহমেদ বাবু, সহসভাপতি এ আর এম খোরশেদ আলম লিটনপ্রমূখ।