পাঁচবিবিতে সংসার যুদ্ধে জয়ী ৪ নারী

212
পাঁচবিবিতে সংসার যুদ্ধে জয়ী ৪ নারী লাবলী রাবেয়া মিম্মা মরিয়ম জয়িতা নির্বাচিত।
পাঁচবিবিতে সংসার যুদ্ধে জয়ী ৪ নারী লাবলী রাবেয়া মিম্মা মরিয়ম জয়িতা নির্বাচিত।

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ অর্থ নৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী লাবলী বেগম (৩২)। তার স্বামী মোঃ নুরুল ইসলাম মাতাঃ মোছাঃ দেলোয়ারা খাতুন, ২ সন্তানের জননী লাবলী বেগম দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী । কোন মতে তাদের সংসার চলতো। ৯ম শ্রেনীতে পড়া লেখা অবস্থায় বেকার যুবক মোঃ নুরুল ইসলাম এর সাথে লাবলীর বিয়ে হয় ।বিয়ের পর তাদের ০২ সন্তান হয় । সন্তান সহ পরিবারের জন্য কিছু একটা সপ্ন নিয়ে লাবলী বেগম মন স্থির করেন।লাবলী বেগম একজন নারী যিনি বাজারে প্রথম টেইলার্স এর দোকান দেন প্রথমে সেলাই প্রশিক্ষন গ্রহন করে বাজারে দোকান দেন।তিনি বাজারে টেইলার্স এর কাজের পাশাপাশি বাড়িতে কাপর তৈরীর শিল্প কারখানার উদ্যোক্তা হয়ে যান। প্রথমে তিনি সেলাই মেশিন ,পরে ৪০,০০০/-টাকা দিয়ে ০২ টি পাওয়ার মেশিন কিনে ট্রাউজার, থ্রী কোয়াটার,পায়জামা,শার্ট,পাঞ্জাবী,টাইস পায়জামা তৈরী করে। লাবলীর অধীনে ০৪ জন মহিলা কর্মচারী কাজ করে।এছাড়াও তিনি কাপর কেটে দেন এবং ২০ জন শ্রমিক সেই কাপর সেলাই করে লাভলীর কার খানায় তৈরী পোষাক পাঁচবিবি,হিলি ,জয়পুরহাট সহ বিভিন্ন জেলায় বিপনন করেন। লাবলী বেগম এমন একজন নারী যিনি নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তার পাশাপাশি অন্যান্য নারী এবং প্রুুষদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি মাসে কমপক্ষে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করে অর্থ নৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জন করেছেন।

সফল জননী নারী রাবেয়া বেগম দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। এস,এস,সি পাশ করার পর দরিদ্র বেকার যুবক ধরঞ্জী ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের নুরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রাবেয়া বেগমের ০৪ সন্তান এবং ০৪ টিই মেয়ে। রাবেয়া বেগম ০৪ মেয়েকে পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত করার সপ্ন দেখেন। রাবেয়া বেগম বাড়িতে সবজির বাগান,হাঁস-মুরগীর খামার ও গরু পালন করে ০৪ মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছেন। ১ম মেয়ে নুরজাহান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশুনা করে,৩১ তম বিসি,এস-এ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজে এম বি বি এস ডাক্তার হিসেবে কর্মরত। ২য় মেয়ে সেলিনা খাতুন –ইসলামী বিশ^-বিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে এল,এল,বি ও এল,এল,এম বর্তমানে পাঁচবিবি উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা অফিস এ উপজেলা প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে কর্মরত। ৩য় মেয়ে শাহিনা খাতুন –রুয়েট,বি,এস,সি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার,ঢাকা ওয়াসায় কর্মরত। ৪র্থ মেয়ে সোহেলি জান্নাত রিপা –বাংলাদেশ কৃষি বিশ^ বিদ্যালয়ে,তয় বর্ষে অধ্যয়ন রত রাবেয়া বেগম একজন নারী যিনি সাময়িক ও দারিদ্রতার মধ্যেও তিনি তার মেয়েদের বিভিন্ন পেষায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেন রসুলপুর গ্রামের মৃত- জামাল উদ্দিনের কন্যা মিম্মা খাতুন। তিনি ৮ম শ্রেনীতে পড়ালেখা অবস্থায় দারিদ্রের কারনে তার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়।বাবা মা তার সুখের কথা চিন্তা করে পাশের গ্রামের জিয়ারুলের সাথে বিয়ে দেয়।বিয়ের পর মিমমা ভালোই ছিল কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই জিয়ারুল মাদক সেবনের সাথে জরিয়ে পড়ে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় মিমমা কে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো।মিমমার বাবা-মা নিকট যৌতুক হিসেবে ১,০০,০০০/- দাবী করেন মিম্মার বাবা মা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শারীরিক ভাবে লাঠি দিয়ে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মিমমা মায়ের বাড়িতে আসার পর স্বামী জিয়ারুল মিমমাকে তালাক দেয় এবং দ্বিতীয় বিয়ে করে।মিমমার পরিবার বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেন।এবং কোর্টে মামলা চলছে।জীবন জীবিকার তাগিদে মিমমা ঢাকায় রানা প্লাজা গার্মেন্টেসে চাকুরী নেয়। কিন্তু ভাগ্যেও নির্মম পরিহাস রানা প্লাজা গার্মেন্টেস ভেঙ্গে পড়ে। অনেক লোক নিহত হয় কিন্তু ভাগ্যের চক্রে মিম্মা সেই রানা প্লাজাই সকাল ৮টায় প্রবেশ করে সকাল ৯টায় ভেঙ্গে পড়ে যায় এবং মিম্মা ভিতরে আটকা পড়ে।তার কোমরে উপর ইটের আঘাত লাগে শ^াস-রুদ্ধকর বেলা ২ টায় ৬ ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মিম্মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।চিকিৎসার পর সুস্থ হন এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে চিকিৎসার জন্য ৫০,০০০/-টাকা গ্রহন করেন। মিম্মা একজন নারী যিনি সামাজিক বিভিন্ন প্রতিকুলতাকে মোকাবেলা কওে বেঁচে আছেন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। মিম্মা বর্তমানে ঢাকার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানী এস,কে গ্রুপে ১৫,০০০/-টাকা বেতনে চাকুরী করেন। মিমমার দেখাদেখি কি ভাবে নির্যাতন থেকে বেড়িয়ে ঘূরে দাড়াতে হয় তা অন্য নারীদের আগ্রহী করে তুলেছে।

সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন কোটাহারা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের কন্যা মরিয়ম বেগম। তিনি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহন করেন পিতা ও স্বামীর নিজস্ব কোন সম্পদ নাই। বসত বাড়ির জমিতে বসবাস করেন। ০৪ সন্তান জন্মের পর স্বামী মারা যায়। বাড়িতে হাঁস-মুরগীর ও গবাদী পশু পালন করে সংসার পরিচালনা করেন। সমাজ উন্নয়নে মরিয়ম বেগমের ভুমিকা নিন্ম রুপঃ প্রাথমিক সাক্ষর জ্ঞানঃ মরিয়ম বেগম পামডো এনজিওর মাধ্যমে আদিবাসীদের উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি আদীবাসীদের বাড়িতে বসে সাক্ষর জ্ঞান করাতেন। আইন সেবিকার কাজ ঃ মরিয়ম বেগম আইন সেবিকা হিসেবে বিভিন্ন গ্রামে আইন ক্লাস এর মাধ্যমে গ্রামের নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করেন। পল্লী সমাজ গঠনঃ তিনি ব্রাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসুচীর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন,নারীর সচেতনতা ও নারীর অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষে বিভিন্ন গ্রামে নারীদের সমন্বয়ে স্বনির্ভর পল্লী সমাজ গঠন ও সংগঠন শক্তিশালী করনে ভূমিকা রেখেছেন। সমবায় সমিতি গঠনঃ তিনি বাগজানা ইউনিয়নে আশার আলো গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি গঠন করেন এবং সমবায় থেকে নিবন্ধন বের করেন। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে সভানেত্রী নির্বাচিত হন।সমবায় সমিতির মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম,সেলাই ও ব্লক-বাটিক প্রশিক্ষন প্রদান করেন। বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকাঃ মরিয়ম বেগম বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছেন ।তিনি গ্রামে গ্রামে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে গ্রাম্য মিটিং এর মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করেন।তিনি বাল্য বিয়ের কুফল ও শাস্তি নিয়ে জনগনের মদ্ধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেন। তিনি ব্র্যাক,থানা বিভিন্ন এনজিও র মাধ্যমে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে কাজ করেন। তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে অনেক বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করেছেন। মাদক নিমূলে ভূমিকাঃ মরিয়ম বেগম জঙ্গিবাদ ও মাদক নির্মূলে এবং ধর্মের অপব্যাখ্যা থেকে বিরত থাকার জন্য জনগনকে পরামর্শ দেন। তিনি সমাজ থেকে গাঁজা,ফেনছিডিল, তাস সহ বিভিন্ন অমানবিক ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করেন। মরিয়ম বেগম একজন নারী যিনি পারিবারিক সামাজিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা কে জয় করে সমাজ উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন যা দেখে এলাকার অন্য সব নারী দের জন্য সমাজ উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।