নিউজিল্যান্ডের সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ছে

270

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক :-  মে মাসের মধ্যে আফগানিস্তানে থাকা বাকি সেনাদের ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন বলেন, সংকটে জর্জরিত দেশটির অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক সমাধানের ভালো সুযোগ তৈরি করেছে। এ মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের ডিফেন্স ফোর্সের (এনজেডডিএফ) সেখানে থাকার প্রয়োজনীয়তা নেই।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০ বছর আফগানিস্তানে এনজেডএফ’র উপস্থিতির পর এখনই সময় সেখান থেকে ফিরে আসার। আফগানিস্তানে সেনা মোতায়েন করে রাখা আমাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা চালায়। সেই থেকে সাড়ে তিন হাজারের বেশি প্রতিরক্ষা এবং অন্যান্য সংস্থার সদস্য মোতায়েন রেখেছিল নিউজিল্যান্ড। বর্তমানে আফগানিস্তানে নিউজিল্যান্ড প্রতিরক্ষা বাহিনীর ছয় সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তিনজন আফগানিস্তান ন্যাশনাল আর্মি আফিসার অ্যাকাডেমিতে বাকি তিনজন ন্যাটোর সাপোর্ট মিশনের হেড কোয়ার্টার্সে।

গুরত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পরই সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান আরডার্ন।

শান্তি প্রক্রিয়ায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী নানাইয়া মাহুতা বলেন, সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় ওয়েলিংটন সহায়তা দিয়ে যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রায় দুই দশক পুরনো সংঘাত নিরসনে আন্তঃআফগান শান্তি আলোচনাসহ আফগান সরকার এবং দেশটির মানুষকে আগামী দিনেও সহায়তা করবে নিউজিল্যান্ড।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেনি হেনারির বরাতে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, আফগানিস্তানের বর্তমান পরিবেশ তৈরিতে দেশটির সেনারা সহযোগিতা করেছে।

‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করেছি আমরা। বিশেষ করে বামিয়ান প্রদেশে। দেশটির নতুন প্রজন্মের সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণেও ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি আমরা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে নিউজিল্যান্ডের সেনা মোতায়েনও বিতর্কের উর্ধ্বে ছিল না।

গেল বছর নিউজিল্যান্ডের তদন্তকারীরা জানান, আফগানিস্তানে মোতায়েন সেনারা ২০১০ সালে একটি ভয়াবহ অপারেশন অংশ নেয়। সে অপারেশনে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সরকার এবং জনগণকে অব্যাহতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে দেশটির সেনারা।

২০১০ সালের ২১ এবং ২২ আগস্ট আফগানিস্তানের তিরগিরানে মিত্রবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অপারেশন বার্নহাম পরিচালনা করে নিউজিল্যান্ডের সেনারা। ওই অপারেশন নিয়ে একটি বই প্রকাশের পর ২০১৮ সালে তদন্ত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই অপারেশনে বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের অধিকাংশ সেনা বামিয়ান প্রদেশে দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। দায়িত্ব পালন অবস্থায় ১০ জন সাধারণ নাগরিককে হত্যা করে তারা।

চলতি সপ্তাহে ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ বলেন, সঠিক সময় আসার আগ পর্যন্ত আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না মিত্ররা।

আফগানিস্তানে বর্তমানে ১০ হাজারের মতো বিদেশি সেনা রয়েছে। চলতি সপ্তাহে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এ বিষয় আলোচনায় বসবেন। যেসব সেনা এখন আফগানিস্তানে রয়েছেন তারা দেশটির সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করছে।

গেল বছর তালেবানের সঙ্গে চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী তালেবানের দেয়া নিরাপত্তার নিশ্চয়তার ভিত্তিতে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হয় ওয়াশিংটন। কিন্তু অব্যাহত হামলার কারণে মার্কিন নতুন প্রশাসন সে চুক্তি এবং প্রতিশ্রুতি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক প্রত্যাশা প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।