বগুড়ায় যুবলীগের কথিত ক্যাডার ও একাধিক মামলার আসামি আলাল শেখ হত্যা মামলায় যুবদল নেতাসহ নিরীহ ব্যক্তিদের নামে মামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মালগ্রাম ও চকসুত্রাপুর এলাকার বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় শহরের সাতমাথা এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
জানা যায়, গত ২৮ মার্চ শহরের ফতেহ আলী বাজার এলাকা থেকে একদল দুর্বৃত্ত আলাল শেখকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মালগ্রাম এলাকায় তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সেদিনই পুলিশ চার যুবককে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকসহ ২৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শফিকুল ইসলাম শফিকের মা সুফিয়া খাতুন। তিনি বলেন, “আলাল শেখ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। চকসুত্রাপুর এলাকায় আরেক সন্ত্রাসী মতিনের ছত্রছায়ায় থেকে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল এবং আমাদের পরিবারকেও এলাকা ছাড়া হতে হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলাল শেখের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসা ও দখলদারিত্ব নিয়ে বিরোধ ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবার নিরীহ ব্যক্তি ও বিএনপি সমর্থকদের নামে মামলা দিয়ে পুলিশকে প্রভাবিত করে হয়রানি করছে।
মানববন্ধন থেকে যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকসহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি আলাল শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রাজীব হোসাইন বলেন, আল শেখ হত্যা মামলায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।পুলিশ নিরীহ মানুষকে হয়রানী করেনি। দুই পক্ষই মানববন্ধন করেছে। আমরা প্রকৃত জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।