আসন্ন ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে বগুড়ায় বিশাল শ্রমিক সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র্যালিসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি গোলাম রব্বানী।
তিনি বলেন, আগামী ১ মে সকাল ৮টায় বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক সাতমাথায় শ্রমিক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশ শেষে বর্ণাঢ্য র্যালি, ব্লাড গ্রুপিং, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, খাদ্য ও গেঞ্জি বিতরণসহ দিনব্যাপী নানামুখী কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ৩১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশের শ্রমনীতি ঢেলে সাজাতে হবে। অবিলম্বে সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং খাতভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে মজুরি বৈষম্য কমানোর কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং মজুরি কাঠামোর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা এবং পেশাগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করতে হবে। পাটকলসহ বন্ধকৃত সকল শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা অবিলম্বে চালু করতে হবে। চাল-ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধসহ শ্রমিকদের নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে। লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারিভাবে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বন্ধকৃত সার কারখানা চালু করা এবং সার, বীজ ও কীটনাশকের মূল্য কমাতে হবে। বেতন ভাতাসহ নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করা এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আগার শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবাসহ সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সকল শ্রেণিপেশার শ্রমিকের সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিল্পাঞ্চল ও শ্রমঘন এলাকায় শ্রমিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত “শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র” প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সকল ধরণের শিল্প কল-কারখানায় শ্রমিক ছাটাই বন্ধ করতে হবে। আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ এর আলোকে সকল পেশায় অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন করার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং স্বাধীনভাবে ট্রেড ইউনিয়ন চর্চার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। হকারদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে হলি-ডে মার্কেট চালু করতে হবে এবং পুনর্বাসন ব্যতীত হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। রেলওয়ে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে এবং শূন্য পদের বিপরীতে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। কর্মস্থলে আহত ও নিহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও পুরুষের বেতন-ভাতার সমতা বিধান নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মুনাফায় শ্রমিকদের অংশ প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমিকদেরকে অংশীদারিত্ব দিতে হবে এবং সংসদ নির্বাচনে শ্রমিকদের জন্য ৩০টি সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রবাসে কর্মরত শ্রমিকদের উপর সকল প্রকার হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ এবং প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের পুর্নবাসন, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী ও আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিশু শ্রম বন্ধ করতে হবে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে রিকশা চলাচলের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করতে হবে। নৌ-পরিবহন শ্রমিকদের মজুরি নীতিমালা প্রণয়ন ও চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে। বন্দর শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। কল-কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায়বিচার ত্বরান্বিত করার স্বার্থে শ্রমঘন এলাকায় শ্রম আদালত বৃদ্ধি ও স্বল্প সময়ে মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। গণভোটের প্রতিফলন জনগণের রায়কে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে “জুলাই জাতীয় সনদ” এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রিয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, বগুড়া মহানগরী সভাপতি আজগর আলী, জেলা সভাপতি মঞ্জুরুল ইসরাম রাজু, জেলা সহসভাপতি জহুরুল ইসলাম বাদশা, মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল ইসলাম প্রমূখ।