বাংলা নববর্ষ, বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই প্রাণের উৎসব ঘিরে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় নেমে আসে আনন্দের জোয়ার। “নতুন বছরের অঙ্গীকার—শান্তি, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির জয়গান” এই প্রতিপাদ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে পালিত হয় বাংলা ১৪৩২ বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান।
উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সকাল সাড়ে ৮টায় বের হয় বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা। স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রঙিন মুখোশ, ফেস্টুন ও ব্যানারে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি গুরুদাসপুর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়ায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, “পয়লা বৈশাখ আমাদের শত বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। এ উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য আমরা প্রশাসনের সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সম্প্রীতির আবহ এই আয়োজনকে করেছে আরও প্রাণবন্ত।”
সার্বিক নিরাপত্তায় ছিল কড়া নজরদারি। গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, “বর্ষবরণের প্রতিটি আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্য, মহিলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও রাখা হয় বিশেষ নজরদারি।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীরা পরিবেশন করেন পল্লীগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, লালনগীতি ও নৃত্যনাট্য। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, ছিলো বাঙালির ঐতিহ্য পান্তা ইলিশের ব্যবস্থা।
গুরুদাসপুরের বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
চলনবিল প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এম আলি আক্কাস বলেন, “এই উৎসব আমাদের সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবোধকে জাগ্রত করে। সবাইকে নিয়ে একসাথে এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।”
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বর্ষবরণে গুরুদাসপুরে অংশ নেয় প্রায় সহস্রাধিক মানুষ। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিককর্মী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরেই বর্ষবরণ পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত ও সম্প্রীতিময় উৎসবে।