মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা শুনছেন না ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করেই লেবাননে আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ লেবাননে চালানো ইসরায়েলি বাহিনীর এই সর্বশেষ হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প হিজবুল্লাহ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তারা ‘হামলা বন্ধ করতে সম্মত’ হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সেই বিবৃতির পরপরই লেবাননজুড়ে নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরিকে বলেছেন, লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন যদি অব্যাহত থাকে, তবে তেহরান কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথই বন্ধ করবে না, বরং আমরা শত্রুর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াব।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের জেবশিত শহরে একটি নার্সারিতে হামলায় দুই সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। তারা সেখানে কাজ করছিলেন।
এ ছাড়া তুল শহরে একটি মোটরসাইকেল এবং আনসার এলাকায় একটি গাড়িতে ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত হন।
এনএনএ জানিয়েছে, টাইর শহরের জাবাল আমেল হাসপাতালে বৃহস্পতিবারের হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, পার্কিং এলাকা এবং আশপাশের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম বৃহত্তম এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর নাবাতিহতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই শহরটিকে গত কয়েকদিনে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে ইসরায়েলি সেনারা।
নাবাতিহ জেলার কাফর সির এবং আব্বা শহরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া হউমিন আল-ফাওকাগামী রাস্তা এবং ইয়াহমুর আল-শাকিকের উপকণ্ঠও ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
লেবাননের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাতেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। গাজার মধ্যাঞ্চলীয় আজ-জাওয়ায়দা শহরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। হতাহতদের দেইর আল-বালাহর আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া ‘যুদ্ধবিরতি’র আলোচনার মধ্যেও গাজাজুড়ে বিমান হামলা এবং কামানের গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।