বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশবিরের কেন্দ্রিয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ থেকে বিভাজনের রাজনীতির কবর দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানের বিএনপি শহীদ জিয়ার চেতনা ভুলে ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের মানুষ যেই নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখছে একটি রাজনৈতিক দল সেই স্বপ্নকে পিষে মারার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইসলামী ছাত্রশিবির জুলাই শহীদদের স্বপ্ন নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দিবেনা। আমরা জীবনবাজী রেখে শহীদদের স্বপ্ন পূরণ করবো ইনশাআল্লাহ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়ার নন্দীগ্রাম মনসুর হোসেন ডিগ্রী কলেজ মাঠে বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের উদ্যোগে আয়োজিত ছাত্র ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিবির সভাপতি বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হাজার হাজার মানুষকে খুন, গুম করা হয়েছে। শত শত শিবির নেতাকর্মিকে খুন করা হয়েছে। অগণিত নেতাকর্মিকে গুম করা হয়েছে যাদের অনেকের কোন খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের যে অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। তিনি বক্তব্যেও শুরুর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন এবং উপস্থিত হাজার হাজার ছাত্র-জনতা আমিন আমিন বলে দোয়ায় শরীক হন। শিবির সভাপতি দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার অবদান এবং আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেগম জিয়ার অপরিহার্য্যতা তুলে ধরেন।
বগুড়া-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, চাকসুর ভিপি ইবরাহীম রনি এবং রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। বক্তব্য রাখেন পাবনা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিষ্টার নাজিবুর রহমান মমিন, জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রিয় ক্যারিয়ার ডেভেলেপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ডাকসুর নির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন মারুফ, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুল হক সরকার প্রমূখ।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শত শত শহীদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ হবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। এদেশে আর কোন দূর্ণীতিবাজ, চাঁদাবাজ, কোন সন্ত্রাসীর ঠাঁই হবেনা। নতুন বাংলাদেশ হবে জুলাই শহীদদের আকংংখার বাংলাদেশ। যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেনা দেশের মানুষ তাদেরকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তিনি বলেন, এই জনপদ দীর্ঘ সিময় বঞ্চিত হয়েছে। উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ নির্বাচিত হলে এলাকার চিত্র বদলে যাবে। তিনি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার বিদেশী সহায়তায় নিয়ে কাহালু-নন্দীগ্রামকে তিনি উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তুলবেন। আগামী নির্বাচনে ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য সাদিক কায়েম কাহালু-নন্দীগ্রামবাসীর প্রতি উদাত্ব আহ্বান জানান।
রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ছাব্বিশ জুলাইয়ের আগের রাজনীতি আর চলবেনা। দেশের মানুষ নতুন ধারার রাজনীতি চায়। যারা জনগণের ভাষা বুঝতে অক্ষম হবেন তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।
চাকসু ভিপি ইবরাহীম রনি বলেন, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে দুইজন বাংলাদেশী হত্যার পর দেশের বড় দলের দাবীদার রাজনৈতিক দল একটি বিবৃতিও দিতে পারেনি। দেশের ছাত্রসমাজ কোন তাঁবেদারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, নির্বাচনী প্রচারনা শুরুর পর থেকেই একটি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর কর্মি-সমর্থকরা দাঁড়িপাল্লার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা আমাদের কর্মি-সমর্থকদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। পোষ্টার, ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলছে। তিনি অপকর্মের সাথে জড়িতদের হুশিয়ার করে বলেন, এরপর কাহালু-নন্দীগ্রামের কোথাও দাঁড়িপাল্লার পোষ্টর কিংবা ফেস্টুন ছেঁড়া হলে, দাঁড়িপাল্লার একজন কর্মি বা সমর্থকের গায়ে হাত দিলে কঠিন জবাবের জন্য তৈরি থাকুন। কাউকে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবেনা। কাহালু-নন্দীগ্রামের মানুষকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে, ছাত্র-যুব সমাবেশকে কেন্দ্র করে কাহালু ও নন্দীগ্রামে সাধারন মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সুষ্টি হয়েছে। দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। আছর নামাজের পর ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম সমাবেশস্থলে পৌঁছলে উপস্থিত হাজার হাজার ছাত্র-যুবক স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে গোটা ময়দান। ছাত্রনেতাদের আগমনে সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের বিজয়ের পথ সুগম হলো বলে মন্তব্য করেছেন সমাবেশে উপস্থিত ছাত্র-যুবকেরা।