লাল-সবুজের রঙতুলিতে আঁকা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র ও একটি পতাকা। ১৮ কোটি মানুষের আবেগে মোড়ানো স্বাধীন বাংলাদেশ। কিনতে হয়েছে সীমাহীন মূল্য দিয়ে। এত দাম দিয়ে আর কোনো দেশ কিনতে হয়নি। সেই বিজয়ের ৫৪ বছর আজ ১৬ ডিসেম্বর। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতার উদ্দেশ্য ছিল দুটি। দেশের মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি।
শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং মানুষের অধিকারের পক্ষে ছিল এ যুদ্ধ। এত বছরে সামষ্টিক অর্থনীতিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু দুর্নীতি ও বৈষম্য কমেনি। অর্থাৎ কিছুটা অগ্রগতি হলেও অর্থনৈতিক মুক্তি মেলেনি। আর রাজনৈতিক মুক্তির পথে সবচেয়ে পিছিয়ে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালে আবারও দেশের মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এখনো দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি রোধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। মানুষের ভোটের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি।
এই ব্যর্থতার দায় রাজনৈতিক দলের। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতাকে সম্পদ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেছে। আবার সম্পদ বিদেশে পাচার করে দেশকে পঙ্গু করেছে। তবে তাদের মতে, দেশের সম্ভাবনা বিশাল। মোট জনশক্তির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই তরুণ। দেশকে এগিয়ে নিতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। আর এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেই সম্ভাবনার দিকে তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।