জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পরকীয়ার সন্দেহ ও দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের এলতা উত্তরপাড়া গ্রামে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত খালেদা বিবি (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল বাকি ওরফে সাইদুর (৫৫)-এর দ্বিতীয় স্ত্রী। তিনি এলতা গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে। প্রায় দুই যুগ আগে কালাই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আব্দুল বাকীর সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে সেহরির সময় বাড়িতে থাকা দুইজন কাজের লোক আব্দুল বাকীকে ডাকতে গেলে তিনি দরজা খুলে দ্রুত বেরিয়ে যান। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তারা ঘরে প্রবেশ করে খালেদাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা দ্রুত পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে কালাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠায়।
কালাই থানার তদন্ত কর্মকর্তা দীপেন্দ্রনাথ সিংহ জানান, প্রাথমিকভাবে পরকীয়ার সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।