বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে অবস্থিত ‘শহীদ জিয়া ডিগ্রী কলেজ’ জাতীয় করণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি মাসের ২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগবাড়ীতে গেলে স্থানীয় জনগণ কলেজটি সরকারি করণের দাবি জানায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী কলেজটি সরকারি করণের ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার পর নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বেসরকারি কলেজ-৬ শাখার সিনিয়র সহকারি সচিব মনজুরুল আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে কলেজটি জাতীয় করণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি জানাগেছে।
আজ ২৯ এপ্রিল স্বাক্ষরিত ওই পত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ ও স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পদের হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকরণ, প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ এবং আর্থিক সংশ্লেষ, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন মামলা-মোকদ্মমা আছে কি না সে বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আইন উপদেষ্টার মতামত এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের অঙ্গীকারনামাসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করতে বলা হয়েছে।
১৯৯৩ সালে তৎকালীন বিএনপির সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমান ও বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটায় এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০১-২০০২ শিক্ষা বর্ষ থেকে ডিগ্রী ক্লাসে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় এবং ২০০২ সালে কলেজটি আনুষ্ঠানিক ভাবে ডিগ্রীতে উন্নীত হয়। জিয়াউর রহমানের নামে নামকরণ করায় বিগত আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে নানান ষড়যন্ত্র করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল বারী জানান, বর্তমানে কলেজে ২১টি বিভাগ চালু রয়েছে। ইন্টারমিডিয়েট এবং ডিগ্রীতে মোট ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ১ হাজার ২৮৫ জন। ৬৪ জন শিক্ষক এবং ২৮জন কর্মচারি দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও জানান, দু’টি একাডেমিক ভবনে মাত্র ৯টি শ্রেণি কক্ষে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হয়। একাডেমিক ভবনের জন্য বারবার ধর্না দিয়েও সুফল মেলেনি।
কলেজটি জাতীয় করণের প্রক্রিয়া শুরুর ফলে শিক্ষক-কর্মচারি, শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর মাঝে খুশির জোয়ার বইছে। শহীদ জিয়ার স্মৃতি অক্ষুন্ন রাখতে তারেক রহমানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। তারা তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।