বগুড়ার ধুনটে লেয়ার মুরগির খামারে ৪ শত গ্রাম ওজনের একটি ডিম পাওয়া গেছে। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণত মুরগির ডিমের ওজন ৫০-৬০ গ্রাম হয়ে থাকে। সেখানে এই বিশাল আকৃতির ডিম দেখে বিস্মিত এলাকাবাসী। ডিমটি দেখতে উৎসুক জনতা খামারীর খামারে ভিড় জমাচ্ছেন।
উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হাসখালী গ্রামের সরকার লেয়ারের স্বত্বাধিকারী শ্রী গোবিন্দ সরকারের খামারে এ ঘটনা ঘটে। অস্বাভাবিক আকারের এই ডিম নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কেউ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ডিমের গঠনতন্ত্র নিয়ে গবেষণার কথা বলছেন।
খামারের মালিক শ্রী গোবিন্দ সরকার জানান, ‘আমি প্রায় ১০ বছর যাবৎ মুরগির খামারের ব্যবসা করি। পোল্ট্রি মুরগি দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে লেয়ার মুরগি থেকে ডিম উৎপাদনের ব্যবসা করছি। বৃহস্পতিবার খামারে শ্রমিকরা কাজ করার সময় খাঁচায় অস্বাভাবিক বড় একটি ডিম দেখতে পেয়ে আমাকে জানায়। শ্রমিকদের কাছে ব্যতিক্রম একটি ডিমের কথা শুনে খামারে এসে ডিমটি সংগ্রহ করে ডিজিটাল স্কেলে পরিমাপ করে দেখি ওজন ৪শত গ্রাম। এই খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী মানুষ খামারে ভীড় করতে থাকেন।’
মোশারফ হোসেন নামের একজন জানান, মুরগির এত বড় ডিম সে আগে কখনো দেখেনি। সাধারণ ডিমের তুলনায় এটি প্রায় দশ গুণ বড়। পাশাপাশি ডিমটির গঠনও স্বাভাবিকের তুলনায় ভিন্ন। এর খোলস মসৃণ না, বরং কিছুটা অস্বাভাবিক দেখাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েক জন পশু চিকিৎসক জানান, সাধারণত লেয়ার মুরগির ডিম ৫০-৬০ গ্রাম হয়ে থাকে। কোনো মুরগি অনিয়মিত ডিম দিলে তার ডিমে একাধিক কুসুম থাকতে পারে। যার ফলে ওজন সর্বোচ্চ ৮০-১০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। তবে ৪শত গ্রাম ওজনের ডিম পাওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। অনেক সময় কোন ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অথবা হরমোন জনিত কারনে এমনটা হতে পারে।
ধুনট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোছাঃ রেহানা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিমটি সম্পর্কে অবগত নন। ডিম না দেখে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করতেও রাজি হননি।