'বগুড়া মডেল স্কুল ও কলেজকে রাজস্ব খাতে ফিরিয়ে নিতে শনিবার ৩ এপ্রিল সকাল ১১ টায় বগুড়া শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন করে শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকবৃন্দ।মানববন্ধনে বক্তরা বলেন, বিগত চার দলীয় জোট সরকারের সময়'উচ্চ মাধ্যমিক মডেল বিদ্যালয়' শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ঢাকা মহানগরী ও ৬টি বিভাগে মোট ১১টি মডেল বিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় এর একটি প্রতিষ্ঠান বগুড়াতে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। সেই লক্ষ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২১ আগস্ট, ২০০৩ সালে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা মৌজায় 'বগুড়া মডেল স্কুলে'র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য পুত্র জনাব তারেক রহমান ২৬ জুন, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির শুভ উদ্বোধন করেন।
২০০৬ সালে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) কর্মকর্তাদের নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে ঘষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু বগুড়াবাসীকে অবাক ও হতাশ করে দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পের অধীনে নয়টি (০৯) প্রতিষ্ঠান রেখে বগুড়া মডেল স্কুল ও কলেজের পরিচালনার দায়িত্ব বিয়াম ফাউন্ডেশনের উপর ন্যস্ত করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে নানা প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের কারণে বগুড়াবাসীসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর এবং সকলের মাঝে বিরাজিত ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিরসনেপ্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছে। সেই সাথে প্রতিষ্ঠানটিকে রাজস্ব খাতে ফিরিয়ে নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এটি সরকারি প্রকল্পের অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি স্কুল যার নাম 'বগুড়া মডেল স্কুল'।
২০০৩ সালের ২১ আগষ্ট এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
২০০৫ সালের ২৬ জুন এটি "বগুড়া মডেল স্কুল" নামে উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্যপুত্র তারেক রহমান।২০০৬ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বিয়াম ফাউন্ডেশন এবং এর নাম পরিবর্তন করেন 'বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ' যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত।এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রাইভেট হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত যারা প্রতিবছর ১১ হাজার টাকা সেশন ফি ও ১১ শত টাকা মাসিক বেতন পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ রাজস্বখাত থেকে বঞ্চিত না হলে মাত্র ১১শত টাকা ভর্তি ফি ও ১৫০ টাকা মাসিক বেতন দিয়ে পড়ার সুযোগ পেত যা থেকে বগুড়াবাসি বঞ্চিত হচ্ছে পাঠদানের মান ও ফলাফলেরভিত্তিতে এটি বর্তমানে উত্তরবঙ্গের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান।বিগত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বগুড়া মডেল স্কুল ও কলেজ কে বাদ দিয়ে প্রকল্পের ১১টির মধ্যে ১টি মডেল বিদ্যালয়কে রাজস্ব খাতে রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে বগুড়াবাসীসহ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সমগ্র উত্তরবঙ্গবাসী অত্যন্ত মর্মাহত ও ব্যথিত হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
বক্তারা আরো বলেন 'বগুড়া মডেল স্কুল ও কলেজ' (বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ, বগুড়া) কে রাজস্ব খাতে ফিরিয়ে নিতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানান , বিগত সরকারের সময় থেকে বগুড়াসহ গোটা উত্তরবঙ্গ নানাভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। 'বগুড়া মডেল স্কুল ও কলেজ'কে রাজস্বখাতে না নেওয়াটা অত্র অঞ্চলকে উন্নয়নবঞ্চিত করারই অংশ। প্রতিষ্ঠানটিতে ষোলো-সতেরো বছরে নানাবৈষম্য, অনিয়ম ও দুর্নীতি পুঞ্জীভূত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, এলাকার অভিভাব সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুর রহিম বগরা, সাংবাদিক মামুনুর রশিদ। অভিভাকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,আব্দুস সালাম, মিজানুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, মঞ্জুর রহমান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা সিফ উল্লাহ, শিক্ষার্থীরাসহ অন্যান্যরা।