২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

১০ অক্টোবর, ২০২৬

উপমহাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলার বগুড়ার ‘কাল্লু খাঁ’

শহিদুল ইসলাম প্রকাশিত: মে ৭, ২০২৫, ২:৪৭ অপরাহ্ন
উপমহাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলার বগুড়ার ‘কাল্লু খাঁ’
 
**বন্ধুগন আজকে যাজে নিয়ে লিখছি, তিনি ফুটবলের আর এক কিংবদন্তী। চিনের প্রাচি ক্ষ্যাত বিষ্ময়কর এক ফুটবলার নাম * কালু খাঁ বা কাল্লু খাঁন।* কনো গল্পো বা কল্পো কাহিনী নয়। সমস্ত লেখাটি পড়ুন। অবশ্যই পুলকিত হবেন। কালু খাঁ কে চিনুন। জানুন বগুড়ার ক্ষণজন্মা এই মানুষে এবং তাঁর পরিবার সম্মন্ধে।
 
জি **বন্ধুগন তাঁর পুরা নাম মাহবুবর রহমান। ডাক নাম কাল্লু খাঁ। নামটি তার ভক্তকুল এবং অগনিত মাঠ ভরা দর্শক আদর করেই ডাকতেন কৃষ্ণ বর্নের পাহাড় সমতুল্য এই মিষ্টি চেহারার মানুষকে কাল্লু খাঁ বলে।
 
** বন্ধু গন অবিশ্ব্যাস্য হলেও সত্য, এক সময় উপ মহাদেশের মধ্যে ভারত বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ গ্রহন করত। তারই পরশে ভারত, পাকিস্থান এবং বর্তমানের বাংলাদেশেও অগনিত বিশ্বমানের ফুটবলার ছিলেন। যাদুকর সামাদ, হাফেজ রশিদ, রহিম খাঁ, জুম্মাখাঁ,র সাথে আরো এক খাঁ যুক্তু হয়েছিলেন তিনিই বগুড়ার কাল্লু খাঁ ।
 
** কালু খাঁ-র বাবা খাঁন বাহাদুর তবিবর রহমান ততকালিন অবিভক্ত বাংলার এস,ডি,ও ছিলেন। ১৯১৮ইং সালে যশোর সদরের দায়িত্ব পালন করা কালীন সময়ে এই বিখ্যাত ফুটবলারের জন্ম হয়।
 
অর্থাৎ কালু খাঁন যশোরে জন্ম গ্রহন করেন। কালু খাঁর গ্রামের বাড়ি বা পৈতৃক ভিটা বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার নওঁদাবগা ষ্টেটের বয়রা গ্রামে। বগুড়া শহরের নিউ মার্কেট পুকুরপাড় এলাকায় তাদের বাসা ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সমূহ।
**ছাত্র জিবনে ঢাকা মুসলিম হাই স্কুলে পড়ার সময় ইন্টার স্কুল কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়েই ১৯২৭ইং সালে ফুটবলের যাত্রা শুরু।
 
**কলেজ জিবনে ১৯৩৯ইং সালে কলিকাতার বিখ্যাত রিপন কলেজের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি চৌকস ফুটলার হিসাবে সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করতে থাকেন। তিনি ভাল এ্যাথলেট, সাইকেলিষ্ট ও চৌকস হকি খেলোয়াড় ছিলেন। কলেজ জিবনেই তিনি কলেজের হয়ে বড় বড় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে বহুবার চ্যাম্পিয়ন হন। এবং রিপন কলেজ কে পড়া লেখার গৌরবের মতই ক্রিড়া ক্ষেত্রেও গৌরবন্বিত করেন। এক কথায় তিনি তখন কলেজের সবার প্রিয় পাত্রে পরিনত হন।
 
**তিনি ১৯৩৯ইং সালে কলিকাতা আন্তবিশ্ব্যবিদ্যালয়*১৬ মাইল ক্রসকান্ট্রি সাইকেল রেস প্রতিযোগীতায় রিপন কলেজ এর পক্ষে রেকর্ড গড়ে প্রথম হন।
 
** তিনি ১৯৩৯ ইং সালে কলিকাতা ফাষ্ট ডিভিশনে ফুটবল খেলা শুরু করেন।তার ক্লাব ছিল ততকালিন ফেমাস টিম এরিয়ান্স ক্লাবে। তিনি এই ক্লাবের হয়ে আই,এফ, এ শীল্ড এ একাধিকবার অংশ গ্রহন করেন। তিনি কালীঘাট ক্লাবেরও পক্ষে খেলে বিভিন্ন বড় বড় প্রতিযোগীতায় কাপ ছিনিয়ে আনেন। তার ক্রিড়া নৈপূরর্নে কুজ বিহারের মহা রাজার প্রিয় পাত্র হয়ে যান তিনি। বগুড়ার প্রয়ত আরো এক চৌকস ফুটবলার আবেদুর রহমান নান্টুর মুখে শুনেছি বগুড়া টিমের সাথে কাল্লু খাঁ কুচবিহারে গেলে সেখানে শহরময় মাইকিং হতো তিনার নামে।
 
কথিত আছে খেলার জন্য কুচ বিহার গেলে রাজা ষ্টেশনে হাতি পাঠিয়ে তাকে রাজ প্রাসাদে নিয়ে যেতেন। যা এক্কেবারে রাজকীয় সম্মান বলা চলে।
**কালু খাঁ দীর্ঘকায় শরীরের অধিকারী ছিলেন।তাকে ডিংঙিয়ে গোল বক্সে ঢোকায় ছিল অসাধ্য ব্যাপার।
 
তাই ততকালীন বাঘা বাঘা ষ্ট্রাইকার তাঁকে কালা পাহাড়ও বলতেন। আর ধারা ভাষ্যকর গন তাকেই প্রথম চিনের প্রাচি বলে আক্ষয়িত করেন। যা আজও প্রচলিত ফুটবলের ধারা বর্ননায় আমরা শুনে থাকি। তিনি বগুড়ার ততকালীন টাউন ক্লাবের হয়ে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ ও দেশের বাহিরে থেকে অনেক কাপ অর্জন করেছেন। তিনি টানা ২৪ বছর ফুটবল মাঠে রাজত্ব করে ১৯৫৫ ইং সালে বর্নাঢ্য খেলোয়াড়ী জিবনের অবসর নেন। তাঁর জিবনের শেষ খেলা ছিল রংপুর গোবিন্দ লাল শীল্ড টুর্নামেন্ট । বলাই বাহুল্য তিনি ততকালে ঢাকার ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, ভিক্টোরিয়া ক্লাব সহ সকল বড় বড় টিমেও খেলেছেন।
** তিনি দারুন এ্যাথলেট ছিলেন। পর পর ১৯৩৬"১৯৩৭"১৯৩৮ইং সালে টানা তিন বার জেলা ক্রিড়া সংস্থার বার্ষিক প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন হন।
 
** তাঁর ফুটবল খেলা সহ বিভিন্ন খেলার রোমাঞ্চকর গল্পো কাহিনী এক দিনে বা এই ফেসবুকে লিখে শেষ করা কখনই সম্ভব নয়। তাই এবার তার অন্নান্য দিক কিছুটা তুলে ধরছি।
**কালু খাঁ ছাত্র হিসেবেও ছিলেন তুখোর। ৪০ দশকের শুরুর দিকে সেনাবাহিনীর লেফ্টেনেন্ট হিসাবে পাকিস্থান সেনাবাহিনীতে ছিলেন। কিন্তুু ফুটবল আর মাঠের নেশায় বেশী দিন পরাধীন না থেকে চাকুরীকে বিদায় জানিয়ে আবার মাঠে ফিরে আসেন।
 
**কালু খাঁ ১৯৭০ইং সালে বগুড়া জেলা ক্রিড়া সংস্থার সেক্রেটারী ছিলেন। তার পরিচালনায় বগুড়ার ক্রিড়া অঙ্গন ছিল মুখরিত। খেলোয়াড়গন দের সাথে তাঁর অত্যান্ত সুসম্পর্ক ছিল।
 
** ১৯৮৪ সালে বগুড়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ব্যাটমিন্টন প্রতিযোগীতা তিনারই নেতৃত্বে সুনামের সাথে টুর্নামেন্ট টি শেষ হয়। তিনি সেই সফল টুর্নমেন্ট এর আহবায়ক ছিলেন বটে।
 
**সাংসারিক জিবনে তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন।বড় ছেলে মাসুম সাহেব বিশিষ্ঠ ব্যাবসায়ী। মেজ ছেলে এক কালের জাতীয় মানের চৌকস ক্রিকেটার,ফুটবলার ও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ছিলেন। এবং এই মেজ ছেলে ওহায়েদুর রহমান পুল্টুলী সাহেব পি,ডি,বি (গ্রীড) প্রধান পৌকৌশলী হিসাবে অবসর নেন। তৃতীয় ছেলে ওয়াসিকুর রহমান বেচান সাহেব দৈনিক করতোয়ায় নির্ভিক সাংবাদিকতার সাথে করতোয়ার জন্মলগ্ন ১৯৭৬ইং সাল থেকেই জরিত। বর্তমানে তিনি পত্রিকাটির উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবেও রয়েছেন। তিনি দৈনিক মুক্ত বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশকও বটে। তিনি বগুড়ায় একজন প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক।, বিনয়ী ভদ্রলোক হিসাবেও অধিক সমাদৃত। বর্তমানে তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটির সম্মানিত আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এর পূর্বে তিনি চারবার প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং মরহুমের ছোটো ছেলে প্রয়ত রতন সাহেবও সাংবাদিকতা করতেন দৈনিক বগুড়ায় বার্তা সম্পাদক হিসেবে। অত্যন্ত চমৎকার মনের মানুষ এই চার ভাই।
 
**মানুষ হিসাবে সফল এই ব্যক্তি মাহবুবর রহমান কালু খাঁ ২০১২ ইং সালে জানুয়ারী মাসে ইন্তেকাল করেন।মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। ইন্না নিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মহান আল্লাহ এমন একজন দেশ সেড়া খেলোয়াড় সৎ স্পষ্টো ভাষি, সাদা মনের মাবুষ কে জান্নাত নসিব করুন
 
##লেখকের মন্তব্যঃ আমরা জীবদ্বশায় এমন ক্ষণজন্মা মহাপূরুষ গনদের সম্মান দিতে পারিনা। ভূলেও তাদের স্বরন করিনা। আমরা কি পারিনা আজও যারা বেচে আছেন, তাদের একটু সম্মান দিতে? এমন ব্যক্তিদের নামে কনো খেলার মাঠ। বা রাস্থা ঘাটের নাম দিয়েও তো তাঁদের স্বরনীয় বরনীয় করে রাখা যায়!
সবায় ভালো থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন। ফি আমানিল্লাহ্।
মোঃ শহিদুল ইসলাম
সাবেক সেক্রেটারী জেলা ক্রিড়া সংস্থা বগুড়া