২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

১০ অক্টোবর, ২০২৬

যমুনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা নিধনের মহোৎসব!

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি. প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন
যমুনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা নিধনের মহোৎসব!

দেশের বিদ্যমান মৎস্য আইনে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ইলিশের জাটকা ধরা একদম নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বগুড়ার সারিয়াকান্দি  উপজেলায় যমুনা নদীর বিভিন্ন অংশে ব্যাপকভাবে জাটকা নিধন চলছে। এতে ইলিশ উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাটকা ও ইলিশ ধরা বন্ধ না হওয়ার নেপথ্যে আছে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জাটকা রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নভেম্বর থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত   নদীতে জাটকা মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পরিপত্র জারি করে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পরিপত্রে জাটকা ও ইলিশ নিধন ছাড়া এগুলো বিক্রি, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণও নিষিদ্ধ করা হয়।

সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, আইনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত অবাধে জাটকা নিধন ও ক্রয় বিক্রয় চলছে। সারিয়াকান্দি মাছের আড়তসহ স্হানীয় হাট বাজারে। 
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে সারিয়াকান্দি কালিতলা ঘাট মাছের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে জাটকা ইলিশ। জেলেরা অবৈধ কারেন্ট জাল ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ শিকার করে এনে এ আড়তে ডাকের মাধ্যমে বিক্রি করছে। 

এটা যে একদিনের ঘটনা তা না এরকম  ব্যাবসা চলছে দীর্ঘ দিন যাবৎ। দুই থেকে চার ইঞ্চির এ মাছ গুলো নিধন করে ইলিশ মাছের প্রজম্মকে ধ্বংশ করছে এ অসাধু জেলেরা। প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি বন্ধ করার বিষয়ে উপজেলা  মৎস্য অফিস কিংবা সংশ্লিস্ট দপ্তরের কোন প্রকার ভূমিকা না থাকায়  এ নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের মাঝে রয়েছে সমালোচনা।

এ বিষয়ে আরও খোঁজ খবর নিয়ে জানাযায়, সারিয়াকান্দিতে প্রতিদিন উপজেলার যমুনা নদী থেকে জাটকা নিধন করে জেলেরা স্হানীয় আড়তে ডাকের মাধ্যমে প্রকাশ্যই বিক্রি করে। মাছ ব্যবসায়ীরা ডাকের মাধ্যমে মাছগুলো ক্রয় করে মাছে বরফ দিয়ে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যই বিক্রি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, সারা বছর ধরে এখানে ছোট ছোট জাটকা মাছগুলো বিক্রি হচ্ছে। ভোর থেকে বেলা ৮ টা পর্যন্ত মণে মণে জাটকা বিক্রি হয়। প্রশাসনের লোকজন মাঝে মধ্যে এসে ঘুরা দিয়ে চলে যায়। কে শুনে কার কথা, জেলেরা মাছ এনে তাদের আড়তে বিক্রি করছে, আড়তদাররা কমিশন পাচ্ছে।

সারিয়াকান্দি পৌর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সনি বলেন, জাটকা নিধনের সাথে যারা জড়িত তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি প্রদান করতে হবে৷ এসব জেলেদের পিছনে শক্তিশালী হাত রয়েছে তাছাড়া এরা এত সাহস পেতোনা। আমি শুনেছি এদের নৌকা জাল কেনার টাকাও অনেকে দিয়ে থাকে যাতে তাদের কাছে ছাড়া কারও কাছে জেলেরা মাছ বিক্রি করতে পারেনা। 

এবিষয়ে সারিয়াকান্দি বণিক সমবায় সমিতি লি. সভাপতি সিরাজুল ইসলাম (ফুল) বলেন, আমাদের যে মাছের মাছের আড়ত গুলো আছে এখান থেকে  উপজেলা মৎস্য অফিস অল্প কয়েক মিনিটের পথ। তারপরেও তাদের নাকের ডগায় এ জাটকা মাছগুলো এভাবে ধ্বংস হচ্ছে এটা খুবই দু:খজনক। তারা বেচতে না দিলেতো তারা এভাবে প্রকাশ্যে বিক্রি করতে পারে না। এ মাছ দেশের সম্পদ যে ভাবে তারা মাছ মারে তা একটি গুরুতর অপরাধ। এদের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) গোলাম শাকিল আহম্মেদ বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি, খুব দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করবো। যত দ্রুত সম্ভব এসব অপরাধীদের কে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।