২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

১০ অক্টোবর, ২০২৬

বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতার বিএনপি সাজার চেষ্টা!

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে প্রধান  সহকারী পদে জালিয়াতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ন
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে প্রধান  সহকারী পদে জালিয়াতি

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) এর প্রধান সহকারী পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে পরিচালকের ফরওয়ার্ডিং চিঠি ব্যবহার করে আবেদনপত্র পরিবর্তনের অভিযোগে উঠেছে এক কর্মচারির বিরুদ্ধে। অভিযোগের তদন্তে প্রতারণার প্রমাণ মিললেও দায়ী কর্মচারির বিরুদ্ধে এখনও চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত কর্মচারি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সক্রিয় নেতা হিসেবে ফ্যাসিষ্ট আমলে প্রভাব কাটালে এখন তিনি বিএনপি নেতার আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


জানা যায়, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলাম বগুড়া জেলার যেকোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদে প্রধান সহকারী পদে পদায়নের আবেদন করেন। পরিচালক আবেদনটি ফরওয়ার্ড করে ডিসপ্যাচ শাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শাহিন ইসলাম বঙ্গবন্ধু পরিষদ বগুড়া শজিমেক শাখার সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি কোন খুঁটির জোরে এসব অনিয়ম করেছেন তা সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। 


অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরণের সময় পরিচালকের স্বাক্ষরযুক্ত ফরওয়ার্ডিং চিঠি অপরিবর্তিত রেখে মূল আবেদনপত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। এর বদলে একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহকারী পদে পদায়ন চেয়ে নতুন আবেদন সংযুক্ত করা হয়। ওই আবেদনের সঙ্গে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশপত্রও যুক্ত ছিল। এভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিভ্রান্ত করে পদায়নের আদেশ আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের বর্তমান প্রধান সহকারী এস. এম. কামরুজ্জামান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা, শাস্তি বা অসদাচরণের অভিযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাকে সরিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে অন্যকে পদায়নের উদ্যোগ প্রশাসনিক বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা মনে করছেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর শজিমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে পরিচালক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, প্রতারণার মাধ্যমে পদায়নের আদেশ আদায় করা হয়েছে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তিনি মহাপরিচালক স্বাস্থ্য বরাবর তিনটি পত্র প্রেরণ করেন। সেগুলো হলো-পদায়নের আদেশ বাতিল, বর্তমান প্রধান সহকারীকে স্বপদে বহাল রাখা এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

এদিকে অভিযুক্ত শাহীন ইসলাম বিএনপির বিভিন্ন নেতার আত্মীয় বলে প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। অথচ বঙ্গবন্ধু পরিষদের সক্রিয় সদস্য থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের যাবতীয় কর্মসূচি তার নেতৃত্বে হয়েছে। শাহীন ইসলাম আওয়ামী শাসনামলে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। সেসময় তার দাপটে শজিমেক হাসপাতালের কর্মচারীরা কোনঠাসা ছিলেন।

হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে বদলী আদেশ বাতিল সহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দাবি করেছেন। অভিযুক্ত শাহীন ইসলামকে একাধিকবার ফোন করে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য চাইতে গেলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তদন্ত কমিটির কাছে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ফরওয়ার্ডিং জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডাঃ মনজুর-এ মোরশেদ জানান, শাহিন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।